মেসি না রোনাল্ডো: একটি সমীক্ষা

Date:

ফ্যানদের কেউ কেউ কেন মেসির চেয়ে রোনাল্ডোকে বেশি পছন্দ করেন? তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সারা দুনিয়ার ফুটবল ভক্তরা দুই ভাগে বিভক্ত – লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তবে ভক্তদের এই পছন্দের পেছনে কেবল তাঁদের পায়ের জাদু বা ফ্রি-কিকই ভূমিকা রাখছে না। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল
ইউনিভার্সিটির একটি নতুন গবেষণা আমাদের জানায়- কোন একজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও নির্ধারণ করে দিতে পারে যে তিনি রোনাল্ডো-মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার পক্ষ নেবেন। এই গবেষণার ফলাফল গত বিশ মে প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘এসএসআরএন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার জন্য নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, সিঙ্গাপুরের গবেষকরা জার্মানি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, জাপান, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ ছাব্বিশ দেশের দশ হাজারের বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়েছেন।

ছবি: রয়টার্স

উত্তরদাতাদের বর্তমান সময়ের এই দুই শীর্ষ ফুটবল তারকার মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। একই সাথে বলা হয়েছিল, তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ করতে। ফলাফলে দেখা গেছে, যাঁরা রোনালদোকে পছন্দ করেন তাঁরা সাধারণত বেশি রক্ষণশীল হয়ে থাকেন। অন্যদিকে, মেসির ভক্তরা তুলনামূলকভাবে বেশি উদারপন্থী হয়ে থাকেন।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির উই কিম উই স্কুল অফ কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সাইফুদ্দিন আহমেদের মতে, ভক্তরা বেশিরভাগ সময় সেই খেলোয়াড়কে সমর্থন করেন যাঁর সর্বজনীন ভাবমূর্তি তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত এবং সমাজগত আচরণের সাথে মিলে যায়। তিনি বলেন, “মেসি এবং রোনাল্ডোর সর্বজনীন ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেসিকে আমরা সাধারণত শান্ত মানুষ হিসেবেই জানি। তিনি সকল উদযাপন করেন দলগতভাবে। সবার সাথে মিলেমিশে থাকবার একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য তাঁর মধ্যে আছে। অন্যদিকে, রোনাল্ডো নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা জোরালোভাবেই প্রকাশ করেন এবং নিজেকে একক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই বেশি উৎসাহী। মানুষ যেকোনো খেলোয়াড়কে নিজের স্বপ্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শ, সামাজিক আচরণ আর অভ্যাস- এই সকল কিছুর সাথে মিলিয়ে দেখতে পছন্দ করে।

মেসি না রোনাল্ডো?
গবেষকরা দেখেছেন, ছাব্বিশ দেশের মধ্যে মেসি তাঁর নিজের দেশ আর্জেন্টিনা ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিনল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়েতে আন্তরিক সমর্থন পেয়েছেন।
পর্তুগিজ ফুটবল কিংবদন্তি রোনাল্ডোর ভক্তরা মূলত উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বেশি অবস্থিত ছিলেন। এই দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকো, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, তুরস্ক, চীন এবং নাইজেরিয়াসহ অন্যান্য দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় মেসির প্রতি আপেক্ষিক পছন্দ সবচেয়ে বেশি, এমনকি মেসির জন্মভূমি আর্জেন্টিনার চেয়েও বেশি। দেশটি রোনাল্ডোকে সবচেয়ে কম রেটিং দিয়েছে।গবেষকদের মতে, কম রেটিং দেয়ার কারণ হতে পারে একটি ঘটনা। ২০১৯ সালে সিউলে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে এই পর্তুগিজ তারকা খেলতে নামেননি। তারকা খেলোয়াড়ের এই অনিচ্ছা ভক্তদের হতাশ করেছিল।
তবে মানুষের খেলোয়াড় পছন্দের পেছনে একের অধিক কারণ কাজ করে। যারা খবরের জন্য ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকের মতো সংক্ষিপ্ত ও তাৎক্ষণিক প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করেন, তারা রোনালদোকে বেশি পছন্দ করেন। অনলাইনে পর্তুগিজ এই উদ্ধত ভদ্রলোক খুবই নিয়মিত।

ছবি: রয়টার্স

যারা রোনাল্ডোর পক্ষ নিয়েছেন, তাঁদের আত্মমর্যাদাবোধও বেশি ছিল। গবেষকরা বলেছেন, এই ধরনের মানুষরা সাধারণত প্রভাবশালী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিত্বের খেলোয়াড়দের বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখান। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন বলেন, “মানুষ হয়তো নিজেকে নরম সরম হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা নরম আর ভদ্র কোনো পাবলিক ফিগারের সাথে নিজেদের সবচেয়ে বেশি মেলাতে পারে। উচ্চ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বরং এমন একজনের দিকে আকৃষ্ট হতে পারেন যিনি শ্রেষ্ঠত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং অর্জনের প্রতীক। এই ধরনের গুণাবলী তাঁরা নিজেদের মধ্যেও দেখতে পান।”

দ্য প্রিন্ট অনলাইনে প্রকাশিত আমান আলম খানের প্রতিবেদন অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

spot_img

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

অসির চেয়ে মেসি বড়

২০২২ বিশ্বকাপ। পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ৩৯...

অর্থনীতিবিদ কেন জ্যোতিষী!

ভবিষ্যতের কথা বলতে পারা পল দ্য অক্টোপাসের কথা মনে...

বিশ্বকাপ ফুটবল: রেকর্ডের অপেক্ষা

মাত্র এগারো দিন গড়ালো ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল। কিন্তু এই...

কে এই এনরিকে মাকায়া মার্কেজ ?

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কথা কে না জানে! আজ আমরা জানবো...