বাংলাদেশের প্রায় সমান বয়সী আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার শরীফ সারওয়ার জন্মেছেন ১৯৭১ সালের মে মাসের ৫ তারিখ, নরসিংদীর রায়পুরায়। তাঁর জীবনের সময়রেখা আমাদের বেশ খানিকটা কৌতূহলী করে তুলতে পারে।
১৯৯৭ সালে ছাব্বিশ বছর বয়সে পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে যুক্ত হন জাতীয় দৈনিকে। রাজপথের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা তিনি দেখেছেন ক্যামেরার চোখে। ছবি তুলেছেন। সেসব ছবি আমাদের জাতীয় স্মৃতির অংশ হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ পরে, স্থলভাগের ছবি তোলার মন তাঁর ঘুরে গেলো জলের গভীরতার বর্ণিল, রহস্যময় দুনিয়ায়। ২০০৯ সালে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্রী ছিলেন তিনি। কাজ করেছেন প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় ৷ ২০১২ সালে বেড়াতে গেলেন সেন্টমার্টিন দ্বীপে। অনেকদিন ধরেই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারির মতো চ্যানেলে জলতলের আশ্চর্য সুন্দর সব দৃশ্য দেখে তাঁর আগ্রহ হতো। সেন্টমার্টিনে দেখা পেলেন এস এম আতিকুর রহমানের। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম – ওশানিক স্কুবা ডাইভিং সার্ভিস। তিনি আগ্রহীদের স্কুবা ডাইভিং, জলের নিচের ছবি তোলার প্রশিক্ষণ দেন। শরীফ সারওয়ারের মনে হলো, একটা পথের সন্ধান পাওয়া গেলো অবশেষে ৷ শেখা শুরু হলো তাঁর। ২০১২ সালে তিনি ‘প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ডাইভিং ইনস্ট্রাক্টর্স’, সংক্ষেপে পিএডিআই ওপেন ওয়াটার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন ৷ পরবর্তীতে, ২০১৪ সালে অ্যাডভান্স ওপেন ওয়াটার প্রশিক্ষণ নেন একই সংস্থা থেকে। ২০২৪ সালে প্যাডি ইন্সট্রাক্টর আসাদুজ্জামান তালুকদারের কাছে পাডি রেসকিউ ডাইভার, ইএফআর প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কেয়ার এবং অ্যাওয়ার কোরাল রিফ কনজারভেশন স্পেশালিটি কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে ২০২৫ সালে মালদ্বীপ থেকে পাডি ডাইভমাস্টার ও পাডি ফ্রি ডাইভার কোর্স সম্পন্ন করেন।
আন্তর্জাতিক লাইসেন্স অর্জনের পথ মোটেও সহজ ছিলো না। থাইল্যান্ডের সাগরে চল্লিশ মিটার নিচে নেমেছিলেন তিনি। গবেষণা জাহাজ ‘মীনসন্ধানী’-র সাথে হাঙর আর তিমির আস্তানা পৃথিবীর অন্যতম গভীর অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের ‘সোয়্যাচ অফ নো গ্রাউন্ড’-এ নেমে ছবি তোলার বিরল কৃতিত্ব আছে শরীফ সারওয়ারের অর্জনের তালিকায়৷

তাঁর মতে, বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সমুদ্রের জলরাশি ঘিরে রেখেছে। অথচ, জলের নিচের অধিকাংশ রহস্য আমাদের জানা নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন, সেন্টমার্টিনের মাত্র পাঁচ শতাংশ সৌন্দর্য আমরা দেখি। বাকি পঁচানব্বই শতাংশ লুকিয়ে আছে সমুদ্রের গভীরতায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অসামান্য আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার পনেরো বছরে তুলেছেন হাজারো ছবি৷ সমুদ্রের গভীরের বাস্তু সংস্থান বুঝতে তাঁর ছবিগুলো সমুদ্রবিজ্ঞানীদের কাছে অমূল্য উপকরণ। তিনি প্রবালের শরীরে পরিবেশ দূষণের চিহ্ন সনাক্ত করেন ৷ মাছের দেহে দেখেন জলজ বাস্তুসংস্থান নষ্ট হওয়ার নমুনা। মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে শুরু করে বহু ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের পৃথিবীর তিন ভাগ জলের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শরীফ সারওয়ার অনেক বার সমুদ্রজলের বর্জ্য সরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রেখেছেন।

আজ পাঁচ মে এই আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফির কবি শরীফ সারওয়ারের জন্মদিন ৷ আমরা নিউজ থ্রি সিক্সটি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই৷ তিনি তাঁর পরিশ্রমলব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাদের আরো সমৃদ্ধ করে তুলুন।


