শরীফ সারওয়ার বাংলাদেশের আন্ডারওয়াটার এবং আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে অনন্য এক ব্যতিক্রমী নাম, যার পেশাগত পথচলা স্থলভাগের ক্যামেরার লেন্স থেকে অজানা সমুদ্রের গভীরের জটিল বাস্তুতন্ত্রের চিত্রায়ণে বাঁক নিয়েছে।
নাম: শরীফ সারওয়ার, পিতার নাম: মরহুম গোলাম সারওয়ার, মাতার নাম: সুরাইয়া বেগম, জন্ম তারিখ: ৫ মে, ১৯৭১, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: দরি হাইর মারা, পোস্ট: মনিপুরা, থানা: রায়পুরা, জেলা: নরসিংদী, বাংলাদেশ। শরীফ সারওয়ারের ৪ ভাই ও এক বোন, তিনি সবার বড়। ইফফাত জাহান তামান্না লিয়া স্ত্রী আর ছেলে শায়ান সারওয়ার।
শরীফ সারওয়ারের প্রফেশনাল ফটোসাংবাদিকতার জীবনের সূচনা ঘটে ১৯৯৭ সালে, যখন তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকায় ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কাজ করেন দৈনিক প্রভাত, ডেইলি নিউজ টুডে এবং প্রথম আলোর মতো প্রথম সারির গণমাধ্যমে। তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো দৈনিক যায়যায়দিন। তিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই বহুল প্রচারিত দৈনিকটির প্রধান ফটোসাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ২০১৭-১৮ মেয়াদে বাংলাদেশ ফটোসাংবাদিক এসোসিয়েশনের সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি শুরু করেন ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে, শুরুটা অনেক কষ্টের ছিলো, তিনি বলেন, তখন আমি স্কুবা ডাইভিং জানতাম না, সাগর, সাগরতলের জীবন সম্পর্কে ধারণা কম ছিলো, পর্যাপ্ত ক্যামেরা ইকুইপমেন্ট ছিলো না ,শুরু করার পর সাগরকে যখন ভালোভাবে বুঝতে ও চিনতে পারলাম তখন আর ফিরে যেতে পারিনি । হাজারো কষ্টের ভিতর দীর্ঘ সময় ব্যয় করে করে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি, এবং এখনো শিখছি।

সাগরতলের বিশেষায়িত দক্ষতা
PADI Open Water Diver 2012 Thailand
PADI Advanced Open Water Diver 2014 Thailand
PADI EFR-Primary & Secondary Care Scuba Tech 2024 Kuwait
PADI Rescue Diver Scuba Tech 2024 Kuwait
PADI AWARE Coral Reef Conservation Specialty Scuba Tech 2024 Kuwait
Reef Check Eco Diver Reef Check 2024 Malaysia
PADI Dive master 2025 Maldives
PADI Free Diver 2025 Maldives

২০২৫ সালে মালদ্বীপ থেকে PADI Divemaster সনদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি ডাইভিং শিল্পে একজন আন্তর্জাতিক ভাবে পেশাদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই স্তরটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন দক্ষ আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফারই নন, বরং একজন ডাইভিং বিশেষজ্ঞ যিনি দল পরিচালনা, ডাইভিং লজিস্টিক্সে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং সুরক্ষা মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সক্ষম। একই সাথে, ২০২৫ সালে PADI Free Diver সনদ অর্জন তাঁকে এমন গভীরতা এবং সূক্ষ্মতায় আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি করার সক্ষমতা দেয়।

PADI Divemaster-এর মতো বাণিজ্যিক ও নেতৃত্বমূলক লাইসেন্স এবং Reef Check Eco Diver, PADI AWARE Coral Reef Conservation Specialty এর মতো বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা আন্তর্জাতিক সনদের সমন্বয় তাকে তার সহযোগী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক অতুলনীয় সম্পদ হিসেবে তৈরি করেছে। এইসকল গুরুত্বপূর্ণ সনদ, যা তাকে বিশ্বব্যাপী গবেষণার স্বীকৃত পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রবাল প্রাচীর এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিরীক্ষা ও ডেটা সংগ্রহ করার ক্ষমতা দেয়। এই সমন্বিত দক্ষতা তাঁকে একজন আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার থেকে গবেষণার মানদণ্ড বজায় রেখে বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল অনুসরণকারী একজন নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্টেশন বিশেষজ্ঞে পরিণত করেছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করে যে, তিনি সাগরতলে যে ভিজ্যুয়াল ডেটা সংগ্রহ করেন, তা একাডেমিক ও সরকারি নীতি নির্ধারণের জন্য চূড়ান্ত নির্ভরযোগ্যতার দাবিদার।

জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলোর কৌশলগত অংশীদার
তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যার ফলে দেশের সামুদ্রিক গবেষণার অবকাঠামোতে তার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফিশারিজ ডিপার্টমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বোটানি ডিপার্টমেন্ট ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুলজি ও এনভায়রনমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেরিন সাইন্স, ইউ এন ডিপি, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও সাগর দূষণ বিষয়ক কাজের জন্য আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি ও ডকুমেন্টেশনের কাজ করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি ও ডকুমেন্টেশনের অভাব রয়েছে। শরীফ সারওয়ারের মতো একজন বিশেষজ্ঞ সেই অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিগত ফাঁকটি পূরণ করেন, গবেষকদের জন্য বঙ্গোপসাগরের গভীরের দুর্লভ ডেটা এনে দেন। এর মাধ্যমে, তিনি কেবল ছবি তোলেন না, বরং বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষম করে তোলেন। তাঁর ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সরাসরি জাতীয় নীতি নির্ধারণ এবং উচ্চাভিলাষী সামুদ্রিক গবেষণার সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
জাতীয় সীমানায় আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি
শরীফ সারওয়ারের আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর এবং এর উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। তিনি সোনাদিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ, এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্কুবা ডাইভিং করে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, কোরাল এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জীবনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। তাঁর কাজের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের রহস্যও উন্মোচিত হয়েছে; তিনি বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) -এ স্কুবা ডাইভিং করে আন্ডারওয়াটার ছবি ও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।
নদী, হাওর ও হ্রদে আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি
শরীফ সারওয়ারের কাজের আরেক বিশেষায়িত দিক হলো : নদী, হাওর ও হ্রদে তাঁর আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি। তিনি শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলজ বাস্তুতন্ত্রের গভীরতায় প্রবেশ করেছেন। তিনি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, পিয়াইন নদী, লালাখাল, কর্ণফুলী, হালদা (যা প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের জন্য সুপরিচিত), দেবতা খুম, সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীতে আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি করেছেন।
এছাড়াও, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর (যা রামসার সাইট হিসেবে সংরক্ষিত), কাপ্তাই লেক, দিনাজপুরের রামসাগর এবং বান্দরবানের বগা লেকের মতো হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে তাঁর আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্বাদুজলে আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি অত্যন্ত কঠিন কারণ নদী ও হাওরে পানির দৃষ্টিসীমা (visibility) সাধারণত কম থাকে এবং স্রোত প্রবল হতে পারে। বগা লেক (একটি পাহাড়ি হ্রদ) থেকে বঙ্গোপসাগরের গভীরতম অঞ্চল পর্যন্ত কাজ করার এই বিস্তৃত পরিসর প্রমাণ করে যে তাঁর ডাইভিং এবং ফটোগ্রাফি দক্ষতা সামুদ্রিক বা উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক জলজ বাস্তুতন্ত্র জুড়ে বিস্তৃত। এই বহুমুখী সক্ষমতা তাঁকে দেশের অভ্যন্তরের জলজ গবেষণার জন্য অপরিহার্য করে তোলে।
আন্তজাতিক সীমানায় আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি
বাংলাদেশের জলসীমার বাইরে থাইল্যান্ডের Phuket , Pattaya, Kho Tao Island, Koh Chang Island , Andaman Sea এবং Gulf of Thailand। ভারতের কাশ্মীরের ডাল লেক, এছাড়াও, মালয়েশিয়ার South China Sea, Tioman Island এবং মালদ্বীপের ৩০টি আলাদা দ্বীপে দিনে ও রাতে আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি করেছেন।
দুর্লভ ও ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যর ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি
তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সমুদ্রের বিস্ময়কর এবং বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল তালিকা। তাঁর ক্যামেরার ফোকাসের মধ্যে রয়েছে হোয়েল শার্ক, টাইগার শার্ক, মান্টা রে, রিফ শার্ক, নার্স শার্ক, এবং স্টিং রে। এছাড়াও, তিনি সামুদ্রিক পরিবেশের জটিল ও ক্ষুদ্র জীববৈচিত্র্য যেমন—অক্টোপাস, জেলিফিশ, সী অরচিন, স্করপিয়ন ফিশ, লায়ন ফিশ, স্টার ফিশ, নানান প্রজাতির কোরাল, সী কিউকাম্বার,নানান ধরনের সী উইড, স্লাগ, মোরে ইল, বক্স ফিশ, সী হর্স, এঞ্জেল ফিশ, জায়ান্ট ক্ল্যাম এবং কাছিম ক্যামেরাবন্দী করেছেন। ডুবন্ত যুদ্ধজাহাজ, সাগরতলের পাহাড় ও গুহা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেগুলো ভূতাত্ত্বিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় কাজে আসতে পারে।
আন্ডারওয়াটার ক্লিনআপ উদ্যোগ
তিনি বঙ্গোপসাগরের ও নদীর তলদেশে প্লাস্টিক, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ক্যাপ, ডিটারজেন্টের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, জাল, গাড়ির টায়ার এবং প্লাস্টিকের ক্যানসহ বিভিন্ন আবর্জনা ডকুমেন্টেশন করেছেন। এই দৃশ্যমান ডকুমেন্টেশন সামুদ্রিক আবর্জনার সমস্যাকে শুধু তাত্ত্বিক না রেখে স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলে এবং সাগরের পরিবেশের প্রতি মানুষের অবহেলাকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এই ধারাবাহিক ক্লিনআপ কার্যক্রম প্রমাণ করে যে তিনি তার ছবিকে সামাজিক পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
২০১৩ সাল থেকে তিনি নিজেদের উদ্যোগে প্রতি বছর সাগরতলে আন্ডারওয়াটার ক্লিনআপ কার্যক্রম করে আসছেন। তিনি সচেতনভাবে সমুদ্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার দুর্দশাগ্রস্ত দিকটিও তুলে ধরেন, যা তার কাজের একটি শক্তিশালী দ্বৈত দৃশ্যকল্প তৈরি করে।
কোরাল নার্সারি স্থাপন
২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাগরতলে পরীক্ষামূলক কোরাল নার্সারি স্থাপনের ঐতিহাসিক কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশনা এবং প্রচারের মাধ্যমে প্রভাব
তাঁর আন্ডারওয়াটার ছবি ও প্রতিবেদন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছে। প্রথম আলো, ইত্তেফাক, যুগান্তর, ডেইলি স্টার , নিউ নেশন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নিউএইজ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জনকণ্ঠ, ইনকিলাব,জাগো নিউজ এবং বণিক বার্তার মতো প্রথম সারির বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে তার কাজ নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও, তাঁর ভিডিওচিত্র এনটিভি, আরটিভি, ৭১ টিভি, ২১শে টিভি, চ্যানেল ২৪, মাছরাঙা টিভি এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি,বাংলা ভিশন সহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে । এই ব্যাপক প্রচার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে তাঁর কাজের প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য এবং তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
প্রদর্শনী ও গ্রন্থনা
২০১২ সালে দৃক গ্যালারিতে এবং ২০১৪ সালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে তিনি বাংলাদেশে প্রথম একক আন্ডারওয়াটার আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেন । তাঁর আন্ডারওয়াটার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই এই প্রদর্শনীগুলি জনমানসে সামুদ্রিক ডকুমেন্টেশনের গুরুত্ব তুলে ধরতে সহায়ক হয়। এছাড়াও, ঢাকা ও সিলেটে আয়োজিত অসংখ্য গ্রুপ ফটো প্রদর্শনীতে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে “BAY OF BENGAL: Bounties Untold” উল্লেখযোগ্য, যেখানে বিদেশী আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফারদের সঙ্গে তাঁর তোলা কয়েকটি ছবি স্থান পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর কাজের মানকে স্বীকৃতি দেয়।

পুরস্কার
শরীফ সারওয়ারের ফটোসাংবাদিকতার মূল বিষয়বস্তু ছিল পরিবেশ ও সামাজিক সচেতনতা। তাঁর তোলা আলোকচিত্রে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হতো, যার ফলে তিনি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এই পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম পুরস্কার এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পুরস্কার। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি পুরস্কার অর্জন করেন, যা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের হাত থেকে প্রাপ্ত। সংবাদপত্রে প্রকাশিত আলোকচিত্রের জন্য তিনি বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন আয়োজিত “ম্যান অব দ্য ইয়ার” পুরস্কার অজন করেন।
শরীফ সারওয়ার তরুণ প্রজন্মের অহংকার। শরীফ সারওয়ার বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অপরিহার্য বাংলাদেশে প্রথম প্রফেশনাল আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর পেশাগত যাত্রা একটি মডেল হিসেবে কাজ করে, যা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দেখায় যে কীভাবে রহস্যময় অজানা সাগরকে আপন করে অ্যাডভেঞ্চার, বিজ্ঞান এবং পরিবেশ সচেতনতাকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং প্রভাবশালী পেশায় রূপান্তর করা যায়।
ভবিষ্যৎ ইচ্ছে
সাগরই যেহেতু ঘর বাড়ি অফিস সংসার তাই সাগরতলেই আজীবন কাজ করে যেতে চান তিনি । আর উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে তাঁর তোলা আন্ডারওয়াটার ছবি দিয়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি করতে চান যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক,পরিবেশবিদ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।


