‘আমাদের এই প্রিয় গ্রহ পৃথিবীটাই তো শূন্যে ভাসমান এক বিশাল কারাগার।’
বাক্যটি লিখেছিলেন শামসুল কবীর। ডাক নাম কচি৷ ডাক ডাকনাম উল্টে দিয়ে লেখক নাম রেখেছিলেন ইচক। ইচক দুয়েন্দে নামে পরিচিত হলেন ‘লালঘর’ বই দিয়ে। কৃষি খামার পরিচালক, গ্রন্থ সম্পাদক এবং ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের তথ্য তাঁর মনের বহুমাত্রিক পরিসর সম্পর্কে আমাদের জানতে সাহায্য করে। আমরা যেভাবে দেখি, উপলব্ধি করি এবং সেই উপলব্ধি লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করি তার তুলনায় ইচকের রাস্তা ছিলো আলাদা। তিনি তাঁর যাপন এবং লিখন ভঙ্গিতে এতোখানি জীবন্ত ছিলেন এই লেখায় অতীতবাচক শব্দ লিখতে মন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। প্রায় ছেষট্টির জীবনে তিনি অল্পই লিখেছেন। প্রত্যেকটা বইয়ে আলাদা ধরনের নিরীক্ষা করায় তাঁর পক্ষে বেশি লেখা সম্ভব ছিলো না।

ইচক দুয়েন্দের মিতায়তন উপন্যাস ‘লালঘর’-এর প্রধান এগারো চরিত্রের নাম : ১. চিকচাক রুই, ২. পুঁই চুলভি, ৩. রজেট চিনচুই, ৪. মিয়ান টিনটুই, ৫. ফ্লিজ ফ্যাল, ৬. জিয়াফ ব্যানব্যাট, ৭. লালু পাঞ্জুমম, ৮. তিয়াস ঠিসটক, ৯. ইমুস ক্যাটস, ১০. ফিটিক চ্যাক, ১১. শ্যামল চিল। সাথে আছে আরো বিশ চরিত্র। একত্রিশটি চরিত্রের নানা মাত্রিক সম্পর্ক ও সংলাপের মধ্য দিয়ে তিনি পৃথিবীতে কারাগারের ধারণাটি বিশ্লেষণ করবার চেষ্টা করেছেন।
আশির দশকে রাজশাহীতে যারা অন্য ধারার সাহিত্য প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত ছিলেন ইচক দুয়েন্দে ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর প্রকাশনার নাম ছিলো-পেঁচা। বিষয় ভাবনা ও মুদ্রণে তিনি সময়ের চেয়ে অত্যন্ত এগিয়ে থাকা প্রকাশক ছিলেন। আমাদের ভাষার কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্প গ্রন্থের প্রকাশক ছিলেন তিনি। বছর দশেক আগে প্রকাশিত ‘টিয়াদুর’ গ্রন্থটি তাঁর মনোজাগতিক উপনিবেশের বর্ণিল বৈভব সম্পর্কে জানিয়ে আমাদের বিস্মিত করে।
শামসুল কবীর কচি, ইচক দুয়েন্দে নামে যিনি আমাদের আত্মার আত্মীয়, এখন থেকে প্রণীত গুটি কতক বইয়ের মাধ্যমে আমাদের আর আগামী দিনের বাংলা ভাষার পাঠকের মনে থেকে যাবেন।
বিদায় না বলি আপাতত।


