আর্টেমিস ২-এর নভোচারীরা চাঁদের বাঁকা প্রান্তের আড়ালে পৃথিবীকে ডুবে যেতে এবং আবার ভেসে উঠতে দেখেছেন । সেই সঙ্গে তাঁরা এমন এক ধীরগতির সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছেন , যা পৃথিবী থেকে আগে কেউ কখনো দেখেনি
ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে নভোচারীরা পৃথিবীকে ধূসর চন্দ্রপৃষ্ঠের উপরে ঝুলে থাকা এক উজ্জ্বল নীল গোলক হিসেবে দেখেছেন । মহাসাগর, মেঘ আর মহাদেশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো আমাদের গ্রহকে গভীর মহাকাশের অন্ধকারের মাঝে এক দীপ্তমান আলোর বলে পরিণত করেছিলো । মহাকাশযান যখন চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘুরে এসেছিলো , তখন আলোর বলটি ধীরে ধীরে নিচে নেমে গিয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত এক অতি ধীরে ক্ষত বিক্ষত চাঁদের কিনারার আড়ালে হারিয়ে গিয়েছিলো।
এই মহাজাগতিক ব্যাপার পৃথিবীর সূর্যাস্তের মতো নয়—যেখানে সূর্য দিগন্তের নিচে ডুবে যায়—এই ‘আর্থসেট’ বা ‘পৃথিবী-অস্ত’ পুরো গ্রহ জুড়ে ঘটে। মহাকাশচারীদের কাছে মনে হয়, পৃথিবী যেন আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভেসে গিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল। সেই মুহূর্তে, সকলের পরিচিত বাসস্থান চোখের আড়াল হয়ে যাবে, আর তার জায়গা করে নেবে এক নিস্তব্ধ ও বাতাসশূন্য জগত।

CREDIT
ESA-D. Ducros
নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের মূল আকর্ষণ চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ঘটে যাওয়া এই পুরো ঘটনা। চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘুরে আসার এই মুহূর্তটিই দশ দিনের এই মহাকাশযাত্রার চূড়ান্ত পর্যায়। এই সময় নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন চন্দ্র পৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন । চল্লিশ মিনিটেরও বেশি সময় পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো এবং একটি মাত্র দীর্ঘ বাঁক ঘুরেই ‘আর্থসেট’ (পৃথিবীর অস্ত যাওয়া), দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণ এবং ‘আর্থরাইজ’ (পৃথিবীর উদয়)-এই তিন বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন ।
যখন পৃথিবী চোখের আড়াল হলো , প্রায় চল্লিশ মিনিটের জন্য মিশন কন্ট্রোলের সাথে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো , কারণ চাঁদ নিজেই পৃথিবীর সাথে সরাসরি সংকেত আদান-প্রদানের পথে বাধা। যোগাযোগ না থাকলেও, ক্রু সদস্যরা ‘ইন্টিগ্রিটি’ নামের ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে তাদের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। নিজেদের কাছে থাকা যন্ত্রপাতির সাহায্যে ছবি, পরিমাপ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
“আমি খুব খুশি হব যদি সারা বিশ্বের মানুষ একত্রিত হয়ে আমাদের সংকেত পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে, আশায় থাকে। ” বলেছেন মিশনের পাইলট গ্লোভার।
রেডিও সাইলেন্সের সময়ে মহাকাশচারীরা এক অনন্য ধরনের সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছেন । পৃথিবীতে চাঁদ যখন সূর্যের সামনে দিয়ে যায়, তখন আকাশ থেকে দুটো জিনিসকেই প্রায় একই আকারের মনে হয়। মাটি থেকে মানুষ সূর্যের চারপাশে থাকা হালকা বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ দেখতে পায় একটি অন্ধকার চাকতির মতো। কিন্তু চাঁদের নিকটবর্তী হলে এই জ্যামিতিক দৃশ্যপট বদলে যায়।
মহাকাশচারীদের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, এটি তখনও একটি সূর্যগ্রহণই থাকবে: চাঁদ সূর্যের সামনে এসে তার আলো আড়াল করবে। পার্থক্য কেবল এই – আমাদের পৃথিবী এক পাশে সরে গিয়ে চাঁদের দিগন্তের কাছে ভাসতে ও ডুবতে থাকবে, আর সংকুচিত সূর্যটি বিশাল আকারের চাঁদের আড়ালে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে উত্তর আমেরিকা জুড়ে পূর্গ্রাস সূর্য গ্রহণ হয়েছিলো। তখন সাধারণ নাগরিকেরা যে চশমা ব্যবহার করেছিলেন এই গ্রহণ দেখতে ওরিয়নের সদস্যরাও এমন সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করেছেন। এই চশমার ফিল্টারগুলো সূর্য অদৃশ্য হওয়ার ঠিক আগের এবং পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তগুলোতে তাদের নিরাপদে সূর্যের দিকে তাকাতে সাহায্য করবে। নাসার একটি সম্প্রচারে আর্টেমিস সায়েন্স অফিসার ট্রেভর গ্রাফ বলেছিলেন, “বস্তুগুলোর আকারের কারণে একিছুটা ভিন্ন হবে। আমরা যখন পৃথিবী থেকে গ্রহণ দেখি, তখন চাঁদের আড়ালে থাকা সূর্যের আকার প্রায় একই মনে হয়। কিন্তু ইন্টিগ্রিটি ক্রুরা সেই সময়ে চাঁদের অনেক কাছাকাছি থাকবেন, তাই তারা সূর্যকে একটি ছোট ডিস্কের মতো অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখবেন।”
সূর্য আড়ালে চলে যাওয়ার পর দৃশ্যপট আবারও বদলে গিয়েছিলো । সরাসরি সূর্যালোক না থাকায় মহাকাশচারীরা তীব্র প্রতিফলন ছাড়াই চাঁদকে কাছ থেকে দেখার এক বিরল সুযোগ পেয়ে গেলেন । অবশিষ্ট আবছা এবং বিক্ষিপ্ত আলোয় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় সব সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো । সেই দীর্ঘ গোধূলিতে চাঁদ নিজেই হয় মূল আকর্ষণ, যা কেবল প্রতিফলিত আলো এবং মহাবিশ্বের দূরবর্তী ক্ষীণ আভা দিয়ে আলোকিত হয়।
নাসার চীফ এক্সপ্লোরেশন সায়েন্টিস্ট জ্যাকব ব্লিচার বলেছিলেন, “চাঁদকে তখন হাত বাড়িয়ে ধরা একটি বাস্কেটবলের মতো মনে হবে, ফলে তারা চাঁদের বেশ অনেকটুকু অংশই দেখার সুযোগ পাবেন।”
তারা যখন চাঁদ প্রদক্ষিণ করলেন , তখন পৃথিবী ‘আর্থরাইজ’ (পৃথিবীর উদয়) হিসেবে পুনরায় দৃশ্যমান হবে—যা অ্যাপোলো ৮-এর সময় তোলা সেই বিখ্যাত দৃশ্যটির কথা মনে করিয়ে দেয়: সামনের দিকে চাঁদের ধূসর বক্ররেখা আর তার ওপর দিয়ে বর্ণিল পৃথিবীর উদয়। এই মিশনের জিরো-গ্র্যাভিটি ইন্ডিকেটর এবং ম্যাসকট রাইজ’ সেই মুহূর্তটিকে উদযাপন করেছে। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে নাসার ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের সাথে বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করতে পেরেছে। ওরিয়নের কেবিনে শূন্যে ভেসে বেড়ানো এই ছোট্ট মাসকটটি ক্যালিফোর্নিয়ার এক দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর নকশা করা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সময়মতো পুনরায় স্থাপিত হবার পর, পৃথিবীর মানুষও এই দৃশ্যগুলো প্রায় সরাসরি (রিয়েল-টাইম) দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন—ঠিক যখন পৃথিবী চাঁদের দিগন্ত ছাপিয়ে ভেসে উঠলো এবং মহাকাশযানের জানালাগুলোকে আলোকিত করে তুলেছিলো। একটি নিবেদিত বিজ্ঞান মূক্যালন দল ছবি এবং তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ শুরু করেছে এর মধ্যেই , যা এই অভিযানের নিয়ন্ত্রকদের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত তা নির্ধারণে সাহায্য করবে।
এতো দীর্ঘ দিন শেষে, শুক্রবার দশ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে এক রুদ্ধশ্বাস অবতরণের উদ্দেশ্যে মহাকাশযানটি ঘরের পথে যাত্রা শুরু করবে। আর্টেমিস ২-এর নভোচারীরা সোমবার চাঁদের প্রান্ত ঘেঁষে সময় কাটিয়েছেন। হাতে ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে তারা দেখছিলেন চাঁদের শরীরের বিভিন্ন গহ্বর , এক গ্রহণ এবং গহন মহাকাশে নীল মার্বেলের মতো এই সবুজ গ্রহের উদয় ও অস্ত যাওয়ার দৃশ্য। চাঁদের উল্টো পিঠে বেশ কিছু ছোট ক্রেটার বা গহ্বর পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা। একটির নাম কমান্ডার ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ‘ক্যারল’-এর নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন সদস্যরা, যিনি অতিমারির বছর ছেচল্লিশ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

Image credit: NASA/Josh Valcarcel
নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন জানালার কাছে ভিড় করছিলেন যেন প্রথমবার বিমানে ওঠা কোনো শিশু। মিশনের ষষ্ঠ দিনে তারা প্রায় সাত ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণের কাজ করেন। লেন্স বদল করা, চাঁদের ভূপৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য যতদূর সম্ভব চিনে নেওয়া এবং মহাকাশযানটি যখন চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন দ্রুত হাতে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন তারা।
সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকার সময় তারা চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় চার মাইলের মধ্যে চলে এসেছিলেন—যা প্রতিটি শৈলশিরা, গহ্বর এবং ছায়াকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। নভোচারীরা যখন জানান দিলেন – চাঁদের পৃষ্ঠ ধূসর নয় বরং অনেকটা বাদামী এবং সেখানে কিছু সবুজ ও তুষারশুভ্র দাগ দেখা যাচ্ছে, তখন মিশন কন্ট্রোল বেশ অবাক হয়। আর্টেমিস ২-এর সাম্প্রতিক ছবিগুলো কেবল অ্যাপোলোর স্মৃতিই ফিরিয়ে আনে না, বরং তাকে ছাড়িয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। অ্যাপোলোর ক্রুরা পৃথিবী ও চাঁদের নিজস্ব আইকনিক ছবি তুলেছিলেন ঠিকই, তবে আর্টেমিস ২ দিয়েছে আরও দীর্ঘস্থায়ী দৃশ্য, সূক্ষ্ম ডিটেইল এবং সেই অভিজ্ঞতা আরেকবার একদম সামনের সারিতে বসে অনুভবের সুযোগ। উদাহরণস্বরূপ, তাদের দেখা দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এমন এক মুহূর্ত ছিলো যা আগের নাসার মিশনগুলো অতি অল্প সময়ের জন্য বা একেবারেই দেখার সুযোগ পায়নি। আধা শতাব্দী আগের মহাকাশ অভিযান এবং পয়লা এপ্রিল শুরু হওয়া দশ দিনের আর্টেমিস টু যাত্রার মধ্যে এটাই মূল পার্থক্য।
” উইন্ডো থ্রি-এর দৃশ্যগুলো দেখার শেষের দিকে একটি পর্যায়ে, চাঁদের দিকে তাকিয়ে আমি এক প্রবল আবেগ অনুভব করি,” কচ বলেন। “মাত্র এক বা দুই সেকেন্ড স্থায়ী এমন অভিজ্ঞতা। আমি চাইলেও দ্বিতীয়বার সেই অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে পারতাম না। চন্দ্রপৃষ্ঠের সেই দৃশ্যমালা হঠাৎ আমাকে গ্রাস করলো এবং সবকিছু একদম বাস্তব মনে হতে লাগলো।” বিশাল ‘মেয়ার ওরিয়েন্টাল’ অববাহিকাটি পাহাড় শীর্ষের বলয়ের মতো ছড়িয়ে ছিলো, এই অববাহিকার জমাট বাঁধা অন্ধকার লাভার তলদেশ প্রাচীন অগ্নুৎপাতের সাক্ষী দিচ্ছিল।
ওয়াইজম্যান বলেন, “এখানকার এক সত্যিকারের অসাধারণ দৃশ্য হলো—এখন আমাদের উইন্ডো থ্রি-এ একই সাথে চাঁদ এবং পৃথিবী দুইই দেখা যাচ্ছে; চাঁদ এখন অর্ধেকের বেশি আলোকিত অবস্থায় আছে এবং পৃথিবী একটি কাস্তের মতো চিকন দেখাচ্ছে। আমার ধারণা, মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে আগামী পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে আমরা দুটি হুবহু একই রকম সরু বাঁকা আকৃতি দেখতে পাব।”
এই কথা শুনে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল থেকে আর্টেমিসের সায়েন্স ফ্লাইট অপারেশন প্রধান কেলসি ইয়াং উচ্ছ্বল হাসিতে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, “এটি সত্যিই দারুণ, আপনাদের ধন্যবাদ।”

Image credit: NASA
ওরিয়ন যখন চাঁদের পেছনে চলে গেল, পৃথিবী তখন ডুবতে শুরু করল। একটি ফ্রেমে দেখা যায়, এটি একটি সরু বাঁকা রেখার মতো ঝুলে আছে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর মেঘের কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে এবং গ্রহের বাকি অংশ রাতের অন্ধকারে ঢাকা। এর কয়েক মিনিট পরই মহাকাশচারীরা পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন; চাঁদ নিজে রেডিও সংকেত আটকে দেওয়ায় প্রায় পঞ্চাশ মিনিট তারা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সম্ভবত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতেই আকাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মহাকাশচারীরা মহাকাশ থেকে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেন, যেখানে চাঁদ সূর্যকে ঢেকে দিয়েছিলো। তাদের অবস্থান থেকে তারা দেখতে পেয়েছিলেন, চাঁদ সূর্যকে গিলে ফেলছে এবং সেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী ছিলো। সূর্যের করোনা বা আলোর ছটা তখন জ্বলজ্বল করছিলো, অন্ধকারের বুক চিরে নক্ষত্ররা উঁকি দিচ্ছিলো, এমনকি ভেনাস বা শুক্র গ্রহকেও একবার দেখা গিয়েছিলো। তবে সবকিছুর মধ্যে পেছন থেকে আলোকিত হওয়া চাঁদই ছিল মূল আকর্ষণ।
এর কিছুক্ষণ পরই পৃথিবী ফিরে আসে—তবে এবার ভাসমান অবয়বে। চন্দ্রপৃষ্ঠের বন্ধুর প্রান্তরেখা ছাপিয়ে একটি ফ্যাকাশে নীল রঙের বাঁকা রেখা বেরিয়ে এলো এক ঐতিহাসিক ‘আর্থরাইজ’ বা পৃথিবী উদয়ের দৃশ্যে। নাসা জানিয়েছে, এই ছবিগুলো বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করবে কীভাবে বিশাল গ্রহাণুর আঘাত জগৎসমূহকে রূপ দেয় এবং কোটি কোটি বছর ধরে চাঁদ কীভাবে তার ক্ষতবিক্ষত পৃষ্ঠ তৈরি করেছে। চাঁদের গায়ে চিরস্থায়ীভাবে খোদাই হওয়া এই গর্তগুলো সৌরজগতের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে রেখেছে।

Image credit: NASA
তবে এগুলো আরও গভীর গিয়ে কাজ করে: আমাদের নিজের ঘর বা পৃথিবীকে ভালোবাসতে শেখায়। কচ বলেন, “সত্যি বলতে, চাঁদ মহাবিশ্বে তার নিজের একটি স্বতন্ত্র সত্তা। চাঁদ কেবল আকাশের কোনো বিজ্ঞাপন নয় যা পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। যখন আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গী জোটে এবং আমাদের আদি নিবাস পৃথিবীর সাথে এই অনুভবের তুলনা করি, তখন এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের মধ্যে কতটা মিল রয়েছে; আমাদের যা কিছু প্রয়োজন তার সবটুকুই পৃথিবী আমাদের দেয়। এই দান নিজেই এক অলৌকিক বিষয়।”
ম্যাশাবল অনলাইন অবলম্বনে

