বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বাঙালির বিশেষ উৎসবের দিনগুলোতে বিশেষ আয়োজনের চল ছিলো। ঘরের টেলিভিশনে একদিন বেসরকারি উদ্যোগে অনেকগুলো চ্যানেল দেখবার সুযোগ পাওয়া গেলো। মানুষের হাতে থাকা মুঠোফোনে এখন বিনোদনের নানা উপকরণ। আছে ফেসবুক, ইউটিউবের মতন নানান মাধ্যম। ইউটিউবে গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশেষ আয়োজন থাকে দুই ঈদের সময়। বাঙালির অপরাপর উৎসবের দিনগুলোতেও এইসব আয়োজন মানুষের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যুক্ত করে। বিশেষত কর্মব্যস্ত সময় পেরিয়ে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের মানুষ, প্রবাসীরা যাতে খানিকটা আনন্দ পান সে আয়োজন করে থাকেন এই ইউটিউব চ্যানেলগুলোর পরিকল্পকরা। ‘রঙিন চশমা’ অপেক্ষাকৃত নতুন ইউটিউব চ্যানেল। একাধিক নাটক মানুষ পছন্দ করেছেন এই চ্যানেলের। বিশেষত ‘বটা ঘটার নির্বাচন’, ‘বটা ঘটা 69’, সত্য ঘটনা অবলম্বনে ‘অন্ধ প্রেমের গল্প’ উল্লেখযোগ্য। গত ঈদুল ফিতরে ‘নীতুর নীল জামা’ সংবেদনশীল দর্শকদের ভালো লেগেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায়, দুই দিন পর, বাইশ মে ইউটিউব চ্যানেল ‘রঙিন চশমা’-য় আসছে ‘এই নিয়ে সংসার’।
নামেই স্পষ্ট একটি সংসারে যা যা থাকে তাই নিয়েই এই নাটকের নির্মাণ। আজকাল নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের প্রিভিউ লেখার এক ধরন হয়েছে গল্পটি বলে দেয়ার। এই লেখায় আমরা গল্পটা বলে দেব না তবে অন্য দু একটা কথা বলতে চাই। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প এখানে বলবার চেষ্টা করা হয়েছে। পটভূমি হিসেবে আছে গ্রামের পরিবেশ, প্রকৃতির সৌন্দর্য। একজন আন্তরিক দুলাভাই সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকতে চান। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পর একটি পারিবারিক পরিস্থিতিতে পড়েন। এই পরিস্থিতির গল্প নিয়েই নাটক। ভালোবাসা আছে, মায়া আছে এমনকি সাময়িক ঘৃণা কিংবা কুটকচালিও আছে। কিন্তু সবকিছুর উপর এক ধরনের হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি আছে এবং ক্রমাগতভাবে আছে সংলাপে, বিশেষ করে দুলাভাইয়ের অভিনয়ে। শেষ পর্যন্ত, মায়ার বাঁধন সংসারকে বাঁচিয়ে রাখে। মায়ার কথা বলা ‘এই নিয়ে সংসার’ – এর মূল উপজীব্য। কারণ মায়া মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
বাংলাদেশের মানুষ, সাধারণ মানুষ সব মিলিয়ে ভালো নেই। নানা কারণেই নেই। যে বিপন্নতা ঘরে ঘরে নানা পরিবারে ঘটে থাকে সেসব তারা পর্দায় দেখতে চায় না। আমরা এক ধরনের ব্রিদিং স্পেস চাই। নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। শিল্প কাজে হিউমারের প্রয়োগ, হাস্যরসের ব্যবহার সেই মূল্যবান স্পেস আমাদের তৈরি করে দেয়। ‘এই নিয়ে সংসার’ নাটকে আমরা দেখব কেমন করে একটি জটিল পরিস্থিতি সবাই মিলে সমাধান করে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভেঙে পড়ে না। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে অর্থের উৎসের বিকল্প তৈরি করা কঠিন। এখানে টাকা পয়সা আর পরিবারের মানুষের মন অনেক সময় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের একটা রাস্তা বাতলে দেয় ‘এই নিয়ে সংসার’ নাটকটি।
জাহিদ বাবুল আর তুষার মাহমুদ, বাংলা নাটকের দর্শকদের পরিচিত নাট্যকার৷ তাঁরা যৌথভাবে নাটকটি লিখেছেন। পরিচালনায় ছিলেন ‘রঙিন চশমা’ ইউটিউব চ্যানেলের নাটকের নিয়মিত পরিচালক তুষার মাহমুদ। তাঁর নির্মিত আগের নাটকের সবগুলোই দর্শকের মনোযোগ পেয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ‘এই নিয়ে সংসার’ সকলের ভালো লাগবে৷ প্রযোজনা সংস্থা ‘ক্রিয়েটিভ উইংস’-এর কর্ণধার আবির মল্লিক বরাবরের মতোই নাটকটির প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করেছেন।


