আর মাত্র একদিন পরেই ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ অসংখ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজক দেশ অতিথিদের সাথে এমন সব আচরণ করছে যা কাম্য নয়। সভ্য সমাজে সংবেদনশীল যে কোন মানুষের পক্ষেই এসব আচরণ নিন্দাযোগ্য অপরাধ। অনলাইন ঘেঁটে তেমন কিছু ঘটনা নিউজ থ্রি সিক্সটি অনলাইনের পাঠকদের জন্য পরিবেশিত হলো।
১. সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার এমবোলোর ভিসা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পরেই সুইস দলের সাথে যোগ দিতে পেরেছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথির সাথে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
২. ইরাকি জাতীয় দলের খেলোয়াড় আয়মেন হুসেইনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।
৩. ইরানি জাতীয় দলকে তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক দিন পার করতে হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের শুধুমাত্র ম্যাচের দিনগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। প্রতিনিধি দলের পনের সদস্যের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
৪. ২০২৫ সালের সিএএফ (CAF)-এর সেরা আফ্রিকান রেফারি হিসেবে মনোনীত ওমর আবদুলকাদির আরতানকে ভিসা দেওয়া হয়নি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শিষ্টাচার না মেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফিফা ঘোষণা করেছে যে তিনি এই বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলা পরিচালনা করতে পারবেন না।
৫. দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল নিজেদের পরিকল্পিত সময়ের চেয়ে অনেক পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে কারণ প্রতিনিধি দলের একটি অংশকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
৬. সেনেগাল জাতীয় দলের স্টাফ সদস্যদের জুতো খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এই তল্লাশি রেসিজমের অভিযোগের জন্ম দিয়েছে।
৭. উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বোমা শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছিল এবং সেই ফুটেজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আচরণ আয়োজক দেশের পক্ষে ন্যাক্কারজনক।
৮. কয়েকজন স্কটিশ সমর্থক, যারা ইএসটিএ (ESTA) কর্মসূচির অধীনে ভিসা ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন। অল্প কয়েক দিন আগে তাদের ভ্রমণের অনুমতি বাতিল করা হয়েছিল।
৯. অনেক সমর্থক যারা ইতিমধ্যেই টিকিট কিনেছিলেন এবং থাকার জায়গা বুকিং করেছিলেন, তাদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যার ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এসব ঘটনা আরও ঘটেছে৷ মার্কিনিদের কঠিন সীমান্তনীতির ফলে এসব বেশি করে সামনে আসছে। যদিও বিশ্বকাপ ফুটবলের এই আসর মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালের বলি হতে যাচ্ছে কিনা এই নিয়ে সারা বিশ্বের ফুটবল আগ্রহী মানুষদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম হয়েছে।


