অনুবাদ: স্বাতীলেখা মিত্র

‘Friends’ (ফ্রেন্ডস) একটি স্মরণীয় মার্কিনি ধারাবাহিক। ধারাবাহিকটির প্রভাব আমেরিকার নতুন প্রজন্মের প্রায় সকল কমেডি নাটকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এইসব নাটকে বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সী বন্ধুদের গল্প টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে।অবশ্য পুরোনো সেই জনপ্রিয় নাটকের মতো এই নতুন ধারাবাহিকগুলো দর্শকদের মনে ছাপ রাখতে অনেক পরিশ্রম করছে।
ম্যানহাটনের অধিবাসী বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সের ছয় বন্ধুর গল্প নিয়ে তৈরি নব্বই দশকের শো ‘Friends’-এর মতো কোনো কমেডি নাটকই নিজেদের সময়কে এতটা গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি। ফ্রেন্ডস জেনারেশন এক্স বা ‘জেন এক্স’ (১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করা মানুষ)-এর জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্র হয়ে উঠেছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দশ বছর ধরে চলা মোট দশটি সিজনের কোনোটিতেই এর গড় দর্শক সংখ্যা কখনো দুই কোটির নিচে নামেনি। শুধু এই ধারাবাহিকের শেষ পর্বটিই প্রায় পাঁচ কোটি পঁচিশ লাখ আমেরিকান দর্শক সরাসরি দেখেছিলেন। তার ফলে, এই নাটক ঐ সময়ে টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি দেখা পর্বের সম্মান পায়।
দর্শক সংখ্যার হিসাব বাদ দিলেও, ‘ফ্রেন্ডস’ (Friends) নাটকের সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল বিশাল। এই নাটক নতুন চুলের স্টাইল (“দ্য র্যাচেল”), ফ্যাশনের ধরন (স্লিপ ড্রেস) এবং সংলাপ (জোয়ির “হাউ ইউ ডুইং’?”) তৈরি করেছিল। ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি: ২০২৫ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, জেন-জি প্রজন্মের প্রিয়তম সিনেমা বা টিভি শোর তালিকায় ‘ফ্রেন্ডস’ ষোড়শ স্থানে আছে। সবিশেষ তালিকাটিতে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ এবং ‘দ্য সামার আই টার্নড প্রিটি’-র মতো বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শোগুলোও রয়েছে। কিন্তু জেন-জি (যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সময়কালে ) প্রজন্মের কি নিজস্ব এমন কোনো ‘ নাটক আছে ‘ফ্রেন্ডস’-এর মতো, যে নাটকের তাদের নিজেদের জীবনের কথা বলবার কথা? বর্তমানে একঝাঁক নতুন কমেডি নাটক ‘ফ্রেন্ডস’-এর মতো আবহ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই নাটকগুলো সত্যিকার অর্থে এখনকার সময়ের বিশ থেকে ত্রিশ বছরের বিপন্ন মানুষদের এলোমেলো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে তুলে ধরছে।
নির্মাতা মিন্ডি কালিং ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’ নামের একটি দেখার মত শো তৈরি করেছেন টিভির জন্য যা ম্যানহাটনের পাঁচজন সদ্য পাস করা গ্র্যাজুয়েটকে নিয়ে তৈরি। অন্যদিকে, এফএক্স (FX) চ্যানেলের কিছুটা বিশৃঙ্খল কিন্তু আরামদায়ক শো ‘অ্যাডাল্টস’-এর দ্বিতীয় সিজন শুরু হয়ে গেছে। এটি কুইন্সের একটি বাড়িতে একসাথে থাকা অন্য আরেক রকম পাঁচজন বন্ধুর গল্প। নিউ ইয়র্কের বাইরেও বিখ্যাত ‘ফ্রেন্ডস’ (Friends) সিরিজের মতো নির্মাণ শৈলীতে আরও কিছু শো তৈরি হয়েছে। যেমন ধরা যাক, ভারমন্টের চার কলেজ বন্ধুকে নিয়ে কালিং-এর ‘দ্য সেক্স লাইভস অব কলেজ গার্লস’ আর এইচবিও (HBO) চ্যানেলের মজার শো ‘আই লাভ এলএ’ কাজ দুটির কথা। আন্তর্জাল তারকা রেচেল সেনটের এই শো-টি মূলত আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে ইনফ্লুয়েন্সার হতে চাওয়া একদল তরুণ-তরুণীকে নিয়ে। তবে এই ধারাবাহিক চেষ্টাগুলোর কোনোটিই আসলে দর্শকদের মনে তেমন বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’ গত জুনে মুক্তির পর খুব কম দর্শক পেয়েছে।সমালোচনাও হয়েছে অতি সাধারণ মানের। চলতি সপ্তাহে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য সেক্স লাইভস অব কলেজ গার্লস’ তিনটি সিজন চলার পর ২০২৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়।
‘অ্যাডাল্টস’ এবং ‘আই লাভ এলএ’ এই দুটি ধারাবাহিক দ্বিতীয় সিজন পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু ‘ফ্রেন্ডস’ কিংবা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শো ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ কিংবা ‘দ্য পিট’-এর মতো সাংস্কৃতিক প্রভাব বা জনপ্রিয়তা তৈরি করতে পারেনি। ‘ফ্রেন্ডস’-এর মতো নতুন কোনো সফল ধারাবাহিক এই সময়ে তৈরি করা কেন একটি অসম্ভব স্বপ্ন? আসুন তার পাঁচটি কারণ সম্পর্কে জানি।

১. আজকের চ্যালেঞ্জিং টিভি জগৎ
জেনারেশন জেড, চলতি কথায় জেন জি, আজকের তরুণ প্রজন্মের কমেডি সিরিয়াল দর্শকের মন ধরে রাখার জন্য ইন্টারনেটের অফুরন্ত কনটেন্ট এবং অবিরাম স্ক্রোলিংয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। ১৯৯৪ সালে যখন বিখ্যাত ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজটি প্রথম শুরু হয়েছিল, তখন এখনকার মতো মোবাইল বা ট্যাবের মত মনোযোগ সরিয়ে দেয়ার মতো উপাদান ছিল না। এটি নিঃসন্দেহে সিরিজটির জনপ্রিয়তায় সাহায্য করেছিল। ২০২৬ সালের একটি গণমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৩% তরুণ পেইড স্ট্রিমিং (৩৭%) বা আদিকালের টিভির (১২%) চেয়ে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও বেশি পছন্দ করে। টিভির কোনো শো একটুও বোরিং লাগলেই, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম সাথে সাথে তাদের সামনে আরও মজার কোনো ভিডিও হাজির করে। তার বাদে, আগের দিনের সাধারণ টিভি ধারাবাহিকগুলোর প্রতি সিজনে বিশটির বেশি পর্ব থাকত৷ এসব কারণে অন্য টিভি চ্যানেলগুলো প্রতিদিন এগুলো আবার দেখাতে পারত। ফলে ভালো লাভ হতো কর্তৃপক্ষের। আধুনিক কমেডি টিভি সিরিজগুলোতে পর্বের সংখ্যা অনেক কম থাকে। ‘ফ্রেন্ডস’এর মত নতুন সিরিজগুলোর প্রতি সিজনে মাত্র আট থেকে দশটি পর্ব থাকে। তার মানে হলো, টিভির পর্দায় দেখানো এই নতুন ধরনের বন্ধুদের সাথে দর্শকের সময় কাটানোর অথবা তাদের আপন করে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না।
২. জগতের বাস্তবতার সাথে সম্পর্কহীন লেখক
জেন জি সিটকমগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হলো গল্পের চরিত্র এবং নাট্যনির্মাতাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব। এই শোগুলো যারা তৈরি করছেন, তারা মূলত মিলেনিয়াল অথবা তার চেয়ে বেশি বয়সী। বিনোদন সাংবাদিক ম্যাক্স গাও আমাদের জানান, “জেন জি প্রজন্মের খুব বেশি লেখক এখনো এই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে পারেননি। যতক্ষণ না এই লেখকদের নিজেদের গল্প বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আজকের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণদের জীবন কেমন, তা হুবহু ফুটিয়ে তোলা কঠিন হবে।”
‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজটিও সিরিজের চরিত্রের চেয়ে এক প্রজন্ম বড় মানুষেরা লিখেছিলেন। তবে আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল তরুণ সংস্কৃতিকে পর্দায় তুলে ধরা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, ‘দ্য সেক্স লাইভস অব কলেজ গার্লস’ সিরিজে জেন জি-দের কথাবার্তার ধরন (যেমন: “আই অ্যাম টেকিং স্ক্রিনশটস, বাট উইথ মাই ব্রেন”) একেবারেই জমেনি। এগুলো দেখতে বেশ আরোপিত আর পুরনো ধাঁচের মনে হয়েছে। ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’ সিরিজটিও একইভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে তরুণদের ব্যবহৃত স্ল্যাং বা অপভাষা (যেমন: “ফ্যাক্টস” এবং “আনহিঞ্জড”) যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুনতে বেশ বানানো মনে হয়েছে।
৩. জেন জির হতাশা নিয়ে কমেডি নির্মাণ কঠিন
দর্শকরা সাধারণত মনের শান্তির জন্য হাস্যরসাত্মক নাটক দেখে থাকেন। ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজটি সেই কাজটি খুব ভালোভাবে করেছিল। কিন্তু বর্তমান জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের পরিস্থিতি যখন মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়, তখন তাদের জন্য এমন শান্তির কোনো নাটক বানানো খুব কঠিন। ইউসিএলএ (UCLA)-এর ‘সেন্টার ফর স্কলারস অ্যান্ড স্টোরিটেলার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. ইয়ালদা টি উলস বিবিসি-কে বলেন, “এই প্রজন্মটি একটি মহামারী (প্যানডেমিক), অর্থনৈতিক সংকট এবং একটি চরম দ্বন্দ্বপূর্ণ ও অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে।” আমেরিকায় অন্য যেকোনো বয়সের মানুষের তুলনায় জেন জির মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। নতুনদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মক্ষেত্রে মানুষের জায়গাও কমে যাচ্ছে। এসবের সাথে ‘ফ্রেন্ডস’ নাটকটি যখন চলত তখনকার জেনারেশন এক্স (Gen X)-এর পরিস্থিতির তুলনা করা যাক।তারা যখন কাজের জীবনে এসেছিল, তখন প্রযুক্তি খাতের জোয়ারের কারণে চারদিকে একটা ইতিবাচক পরিবেশ ছিল। জরিপে দেখা গিয়েছিল যে তারা ব্যক্তিগতভাবে “অত্যন্ত আশাবাদী” ছিল।
তার মানে হলো এই কমেডি ড্রামা পরিচালকদের একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। জেন জি প্রজন্মের খামখেয়ালি, বদলে যাওয়া সময়ে বড় হয়ে ওঠার গল্প পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হচ্ছে। আবার গল্পটা যেন অতিরিক্ত হতাশাজনক বা অন্ধকার না হয়ে যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’ নাটকে জেন জি-দের চাকরি পাওয়ার হতাশা কিছুটা দেখানো হয়েছিল। একটি পর্বে দেখা যায়, অভিনেতা হতে চাওয়া কেল (নিকোলাস ডুভারনে)-এর একটি দারুণ অডিশন শেষ পর্যন্ত একটি এআই মোশন ক্যাপচার প্রজেক্ট হয়ে পড়ে। তবে এই পর্বটি বাদ দিলে, পুরো নাটকটি আজকের দিনের রূঢ় বাস্তবতার সাথে কোনো মিল রাখেনি, ফলে ঘটনাপ্রবাহ এক ধরনের মিথ্যা মনে হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অ্যাডাল্টস’ নাটকের দ্বিতীয় সিজনে জেন জি-দের ক্যারিয়ারের কঠিন লড়াইগুলো তুলে ধরা হয়েছে, প্রথম সিজনে ছিল না। বিশেষ করে, বিলি (লুসি ফ্রেয়ার) পুরো সিজন জুড়ে একটি ফুল-টাইম চাকরি পাওয়ার জন্য তীব্র যুদ্ধ করে। জেন জি-দের আবাসন বা থাকার জায়গার সমস্যা নিয়েও এই নাটক দুটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’-এর চরিত্রগুলো ম্যানহাটনের পাশাপাশি দুটো চমৎকারভাবে সাজানো ফ্ল্যাটে থাকত। ঠিক যেমনটা ‘ফ্রেন্ডস’ নাটকে দেখা যেত। তবে ‘ফ্রেন্ডস’ নাটকের ক্ষেত্রে বিষয়টি দর্শকদের মনে সুন্দর একটা স্বপ্ন তৈরি করত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে এটি একটি অপমানজনক ও কাল্পনিক বিষয় বলে মনে হয়। তার বিপরীতে, ‘অ্যাডাল্টস’ নাটকটিতে জেন জি-দের বাড়ি নিয়ে কমে আসা প্রত্যাশার বাস্তব চিত্রটি আরও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে দেখা যায়, পাঁচ বন্ধু মিলে সমিরের (মালিক ইলাসাল) ছোটবেলার মাত্র তিন রুমের একটি বাড়িতে গাদাগাদি করে থাকছে।
৪. ডাইভার্সিটি চিত্রায়নের জটিলতা
জেন জি প্রজন্মের সিটকমগুলোর অর্থাৎ কমেডি নাটকগুলো সবার জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া বেশ কঠিন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, আমেরিকার জেন জি প্রজন্ম আগের যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে জাতি ও ধর্মের দিক থেকে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। এই কারণে গবেষক গাও বলেন, “একটি মাত্র নাটকে এত রকমের মানুষের অভিজ্ঞতা একসাথে ফুটিয়ে তোলা আসলেই কঠিন।'” তার তুলনায় পুরনো বিখ্যাত নাটক ‘ফ্রেন্ডস’ ছিল অনেক আলাদা। সেখানে সব চরিত্রই ছিল শ্বেতাঙ্গ এবং সাধারণ সম্পর্কের। তখনকার সময়ে টিভির নাটকে এমনটাই বেশি দেখা যেত। ‘সেক্স লাইভস অব কলেজ গার্লস’ নামের একটি নাটকে জাতি বা লিঙ্গগত পার্থক্যগুলোকে একদম সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা দেখতে বেশ বানিয়ে তোলা লেগেছে। অন্যদিকে, ‘অ্যাডাল্টস’ নাটকটি তার ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলোকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। যেমন ধরুন, পল বেকার চরিত্রটির প্রেমের পছন্দে কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। অন্যদিকে ঈসা চরিত্রটি সবসময় বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন নিয়ে মেতে থাকে। কিন্তু একটি হাসির নাটক হিসেবে দেখলে, এত বেশি ভিন্নতার কারণে নাটকটির মূল গল্প মাঝেমধ্যে খেই হারিয়ে ফেলে।
৫. জীবন অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভর
আজকের যুগের ফ্রেন্ডস ঘরানার হাসির নাটকগুলোতে তরুণ প্রজন্মের জীবনে ইন্টারনেটের বিশাল প্রভাবকে বাদ দেওয়া অসম্ভব। কিন্তু নাটকে এসব ফুটিয়ে তোলার কিছু নিজস্ব সমস্যা আছে। স্ক্রিনে টেক্সট মেসেজের লেখা ভেসে ওঠা দেখতে বেশ খারাপ লাগে। ফলে এই নাটকগুলো ইন্টারনেটের এই বাস্তবতাকে দেখানোর অন্য উপায় খোঁজে বা একদমই এড়িয়ে যায়। ‘অ্যাডাল্টস’ নাটকে ফোনের স্ক্রিন দেখানো পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ‘নট সুইটেবল ফর ওয়ার্ক’ নাটকে ডেটিং অ্যাপের কথাই বলা হয়নি, তা চরিত্রগুলোর জটিল প্রেমের জীবন বিবেচনায় একটি বড় ভুল।
আই লাভ এলএ একমাত্র নাটক যা আজকের ডিজিটাল সংস্কৃতিকে ঠিকভাবে তুলে ধরেছে। এই নাটকের গল্প ফোন-পাগল ইনফ্লুয়েন্সার এবং বিনোদন জগতের মানুষদের নিয়ে। এই নাটকটি তরুণদের অনলাইনের কৃত্রিম দেখনদারি রূপটিকে সুন্দরভাবে দেখিয়েছে। নাটকে এক ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, “আপনি যদি এক সেকেন্ডের জন্যও থামেন, তবে আপনি হারিয়ে যাবেন।” কিন্তু এই নাটকটি তরুণদের বাস্তব জীবন এবং অনলাইন জীবনের মধ্যকার জটিলতা নিয়ে গভীর কোনো বার্তা দেয় না। এটি কেবল ইনফ্লুয়েন্সারদের লোকদেখানো রূপচর্চা-পাগল মানসিকতা নিয়ে মজা করতেই ব্যস্ত থাকে। নাটকের ট্যালেন্ট এজেন্ট মায়ার (সেনট) কাজ কী তা পরিষ্কার নয়। আবার প্রধান ইনফ্লুয়েন্সার তালুলার (অদেসা আ’জিওন) পোস্ট করা কনটেন্টগুলোও কখনো পর্দায় দেখানো হয় না। এখন পর্যন্ত, তরুণদের নিয়ে তৈরি নাটকগুলোর মধ্যে ‘অ্যাডাল্টস’ সবচেয়ে সেরা। এই নাটক চমৎকার হাস্যরসের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছে। নাটকটির দ্বিতীয় সিজন বেশ ভালো রিভিউ পেয়েছে, তাই দর্শকরা এটি কীভাবে গ্রহণ করে তা দেখা বেশ চমৎকার হবে। তবে তরুণ প্রজন্মকে একই সাথে মজার আর বাস্তবতার গল্প পর্দায় উপস্থিত করে ধরে রাখাটা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।


