দেশি স্বাদের গল্পে ‘ভাবীর ভাতের হোটেল’: খাবার, সম্পর্ক আর মাটির গন্ধের নাটক

Date:

বাংলা নাটক ‘ভাবীর ভাতের হোটেল’ নাম শুনলেই দর্শকের মনে প্রথমে যে ছবিটি ভেসে ওঠে, তা হলো এক প্লেট গরম ভাত, দেশি রান্নার ঘ্রাণ আর খুব চেনা এক গ্রামীণ-মানবিক পরিবেশ। নাটকটি শুধু একটি খাবারের হোটেলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি; এর ভেতরে আছে দেশি স্বাদের প্রতি মানুষের টান, খামার থেকে সরাসরি আসা তাজা খাবারের প্রতি বিশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সহজ-সরল গল্প।

রঙিন চশমা-এর গল্পে নির্মিত এই নাটকের মূল আকর্ষণ হলো এর খাবারকেন্দ্রিক পরিবেশনা। এখানে দেখানো হয়েছে এমন এক হোটেল, যেখানে সতেজ শাকসবজি, খামারের মুরগি, গরু ও ছাগলের মাংস দিয়ে তৈরি হয় দেশি স্বাদের খাবার। এই জায়গাটিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নাটকের আবহ। দর্শক শুধু খাবার দেখে না, বরং খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্বাস, যত্ন এবং মানুষের ফিরে আসার কারণও অনুভব করতে পারে।

‘ভাবীর ভাতের হোটেল’-এর বড় শক্তি হলো এর লোকাল ফ্লেভার। নাটকটি শহুরে কৃত্রিমতা থেকে দূরে গিয়ে এমন এক স্বাদ ও পরিবেশ তুলে ধরে, যা অনেক দর্শকের কাছে পরিচিত এবং নস্টালজিক। খাঁটি দেশি রান্নার কথা, বাজারের তাজা সবজি, খামারের মাংস—সব মিলিয়ে নাটকের ভিজ্যুয়াল ও ভাবনা দর্শককে সহজেই গল্পের ভেতরে টেনে নেয়।

নাটকটির উপস্থাপনায় একটি প্রচ্ছন্ন বাস্তবতা আছে। খাবারের মান কেন গুরুত্বপূর্ণ, মানুষ কেন নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বারবার ফিরে যায়, ভালো রান্নার পেছনে যত্ন কতটা প্রয়োজন—এসব বিষয় নাটকের ভেতর দিয়ে সহজভাবে উঠে এসেছে। এটি সরাসরি কোনো প্রচারমূলক গল্প হয়ে ওঠেনি; বরং খাবারকে কেন্দ্র করে মানুষের পছন্দ, অভ্যাস এবং সম্পর্কের জায়গাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

অভিনয়ের জায়গায় নাটকটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন সুমাইয়া অর্পা, শফিক খান দিলু, অনুভব মাহবুব, ইমরান হাশু, সুমন আহমেদ বাবু, শ্যামল হাসান ও হাকিম আমিন। অতিথি চরিত্রে আছেন তুহিন চৌধুরী। প্রত্যেকেই নিজেদের চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের পরিবেশকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।

কারিগরি দিক থেকেও নাটকটি যত্ন নিয়ে নির্মিত। চিত্রগ্রহণে জেড আই জাহিদ খাবারের পরিবেশ, চরিত্রের আবেগ এবং লোকাল আবহকে ফুটিয়ে তুলেছেন। উত্তম সরকার-এর এডিট ও কালার নাটকের গতি এবং ভিজ্যুয়াল টোন ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। ঋষিকেশ রক-এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গল্পের আবহকে আরও উষ্ণ করেছে। সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন জামাল হোসেন খোকন এবং পোস্টার ডিজাইন করেছেন রনি আকন্দ

এই ধরনের নাটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে খাবারের গল্পকে শুধু খাবারের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ না রেখে চরিত্র ও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা। ‘ভাবীর ভাতের হোটেল’ সেই জায়গায় দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। খাবার এখানে শুধু উপকরণ নয়, বরং গল্প বলার একটি মাধ্যম।

সব মিলিয়ে ‘ভাবীর ভাতের হোটেল’ এমন একটি বাংলা নাটক, যেখানে দেশি খাবারের স্বাদ, গ্রামীণ আবহ, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং সহজ বিনোদন একসঙ্গে মিশে গেছে। যারা হালকা, পারিবারিক এবং চেনা জীবনের ঘ্রাণমাখা গল্প দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য নাটকটি হতে পারে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

নির্মাণ তথ্য

নাটক: ভাবীর ভাতের হোটেল
স্টোরি: রঙিন চশমা
কাস্টিং: সুমাইয়া অর্পা, শফিক খান দিলু, অনুভব মাহবুব, ইমরান হাশু, সুমন আহমেদ বাবু, শ্যামল হাসান, হাকিম আমিন
গেস্ট কাস্ট: তুহিন চৌধুরী
DOP: জেড আই জাহিদ
এডিট ও কালার: উত্তম সরকার
বিজিএম: ঋষিকেশ রক
এডি: জামাল হোসেন খোকন
পোস্টার ডিজাইন: রনি আকন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

spot_img

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

হলিউড, নোলান আর ‘দ্য অডিসি’-র শিল্পীদের প্রতি গ্রিক জনগণের খোলা চিঠি

অনুবাদ : অপরাজিতা মুমু ক্রিস্টোফার নোলানের 'দ্য অডিসি'-র শিল্পী এবং...

পানাহির ‘অফসাইড’ : খেলা আর রাজনীতি

জাফর পানাহির কন্যার স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার না পাওয়াই অফসাইড সিনেমাটি...

‘এই নিয়ে সংসার’ : একটি প্রিভিউ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বাঙালির বিশেষ...