পাপের প্রেত

Date:

লর্ড ডানসেনি

ভাষান্তর: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

আমার ভাইয়ের সঙ্গে সেই বিশাল নির্জন বাড়িতে যে তর্কটি আমার হয়েছিল, তা আমার পাঠকদের বিশেষ আকর্ষণ করবে বলে মনে করি না—অন্তত তাঁদের নয়, যাঁদের আমি আশা করি আকৃষ্ট করতে পারব আমার সেই পরীক্ষার দ্বারা, এবং সেই অদ্ভুত ঘটনাবলির দ্বারা, যা আমার সঙ্গে ঘটেছিল সেই বিপজ্জনক অঞ্চলে, যেখানে আমি এত হালকাভাবে এবং এত অজ্ঞতার সঙ্গে আমার কল্পনাকে প্রবেশ করতে দিয়েছিলাম। সেটা ছিল ওনলেই—এই জায়গাতেই আমি তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম।

এই ওনলেই জায়গাটি অবস্থিত ছিল বিস্তৃত এক নির্জনতায়—–চারদিকে অন্ধকার, ফিসফিসে স্বরে ভরা প্রাচীন দেবদারু গাছের সমাবেশ। উত্তরের হাওয়া এলে তারা মাথা নাড়ে, মনে হয় যেন একে অন্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছে; তারপর গোপনে আবার স্থির হয়ে যায়, কিছুক্ষণ আর কোনো কথা বলে না। সেই উত্তরের হাওয়া যেন তাদের কাছে জ্ঞানী বৃদ্ধদের মধ্যে আলোচিত হওয়া কোনো জটিল সমস্যা—তারা মাথা নাড়ে, আর একসঙ্গে ফিসফিস করে সে বিষয়ে কথা বলে। এই দেবদারুগুলো অনেক কিছুই জানে; তারা তো এতদিন ধরে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পূর্বপুরুষরা লেবানন দেখেছে, আর তাদেরও পূর্বপুরুষরা ছিল টায়ারের রাজার সেবক, যারা সলোমনের দরবারে এসেছিল। আর এই ধূসর-শির বিশাল সময়ের কালো-কেশ সন্তানদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল ওনলেই-এর পুরোনো বাড়িটি। কত শতাব্দী ধরে বছরের ক্ষণস্থায়ী ফেনা এসে তাকে আঘাত করেছে, আমি জানি না; কিন্তু তবুও সেটি অটুট রয়ে গেছে, আর তার চারপাশে জড়িয়ে রয়েছে অতীতের নানা বস্তু—যেমন সমুদ্রের ঢেউকে অগ্রাহ্য করা কোনো শিলাখণ্ডে অদ্ভুত সব শৈবাল লেগে থাকে। এখানে, বহু আগেকার মানুষের পরিধেয় বর্ম পড়ে আছে, যেন বহুদিন আগে মৃত লিম্পেটের খোলসের মতো; এখানে রয়েছে নানারঙের ট্যাপেস্ট্রি, সাগরের শৈবালের মতোই সুন্দর। আধুনিক কোনো ভাসমান বস্তু এখানে কখনো এসে ভেড়েনি—না কোনো প্রারম্ভিক ভিক্টোরিয়ান আসবাব, না কোনো বৈদ্যুতিক আলো। সভ্য জগতের কোলাহল আর সস্তা আধুনিকতার চিহ্ন এই নির্জন এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি।

যাকগে, একদিন না একদিন সময়ের স্রোত এটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দূর সমুদ্রতীরে ছড়িয়েই দেবে। এর মধ্যেই, যখন এটি অটুট ছিল, আমি আমার ভাইয়ের কাছে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম, এবং আমরা ভূত নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লাম। এই বিষয়ে আমার ভাইয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা আমার কাছে সংশোধনের প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল। সে কল্পনার জিনিসকে বাস্তব অস্তিত্বসম্পন্ন বলে ভুল করছিল; সে যুক্তি দিচ্ছিল যে, কেউ ভূত দেখেছে—এমন দ্বিতীয়-হাতের সাক্ষ্যই প্রমাণ করে যে ভূত আছে। আমি বললাম, তারা সত্যিই যদি ভূত দেখেও থাকে, তবুও সেটি কোনো প্রমাণ নয়; যেমন কেউ উন্মাদ অবস্থায় লাল ইঁদুর দেখেছে—এমন প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য অনেক থাকলেও, কেউ বিশ্বাস করে না যে লাল ইঁদুর সত্যিই আছে।

শেষ পর্যন্ত আমি বললাম, আমি নিজেই ভূত দেখব। যদি দেখি তবুও তাদের বাস্তব অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে যাব। তাই আমি কয়েকটি সিগার জোগাড় করলাম, বেশ কয়েক কাপ খুব কড়া চা খেলাম, রাতের খাবার না খেয়েই রইলাম, এবং একটি ঘরে গিয়ে বসলাম—যেখানে সব গাঢ় ওক কাঠের আসবাব, আর সব চেয়ারই ছিল ট্যাপেস্ট্রিতে মোড়া। আমার ভাই  আমাদের তর্কে বিরক্ত হয়ে শুতে চলে গেল, তবে আমাকে কষ্ট না দিতে অনেক চেষ্টা করেছিল। পুরোনো সিঁড়ির নীচে দাঁড়িয়ে আমি যখন তাকিয়ে ছিলাম, আর তার হাতে ধরা মোমবাতি পাক খেতে খেতে ওপরে উঠছিল, তখনও আমি শুনতে পাচ্ছিলাম—সে আমাকে রাতের খাবার খেয়ে শুতে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

শীতের এক ঝড়ো সময় ছিল সেটা। বাইরে দেবদারু গাছগুলো কী যেন ফিসফিস করে বলছিল—আমি জানি না কী; তবে মনে হয় তারা বহু আগে লুপ্ত হয়ে যাওয়া এক ধারা বা মতবাদের অনুগামী, তাই নতুন কিছুর আবির্ভাবে তারা অস্থির হয়ে উঠেছিল। ভেতরে, অগ্নিকুণ্ডে রাখা এক বিশাল স্যাঁতসেঁতে গুঁড়ি কটমট শব্দ করতে করতে যেন গাইতে শুরু করল—একটা কাতর সুর তুলল; তার ওপর লম্বা এক শিখা উঠে দাঁড়িয়ে তাল দিচ্ছিল, আর চারপাশের সব ছায়া জড়ো হয়ে নাচতে শুরু করল। দূরের কোণগুলোতে জমাট অন্ধকারগুলো যেন অভিভাবিকার মতো নিশ্চুপ বসে ছিল, একটুও নড়ছিল না।

ওদিকে, ঘরের সবচেয়ে অন্ধকার অংশে ছিল একটি দরজা—যেটি সবসময় বন্ধ থাকত। সেটি ছিল হলঘরে যাওয়ার পথ, কিন্তু কেউ কোনোদিন তা ব্যবহার করত না; সেই দরজার কাছে একসময় এমন কিছু ঘটেছিল, যা নিয়ে পরিবারের গর্ব নেই। আমরা সে বিষয়ে কথা বলি না। আগুনের আলোয় সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো চেয়ারগুলোর গম্ভীর অবয়ব; যাঁদের হাতে তাদের ট্যাপেস্ট্রি তৈরি হয়েছিল, তাঁরা বহু আগেই মাটির গভীরে শায়িত, আর যে সূচ দিয়ে তারা কাজ করত, তা এখন মরচের অসংখ্য টুকরো হয়ে গেছে। সেই পুরোনো ঘরে এখন আর কেউ কিছুই বোনে না—শুধু যত্নশীল প্রাচীন মাকড়সাগুলো ছাড়া, যারা অতীতের মৃতপ্রায় জিনিসগুলোর পাশে প্রহরী হয়ে থেকে তাদের ধুলোকে ঢেকে রাখার জন্য কাফন বুনে চলে। আর সেই কাফনের মতো জালে, কার্নিশের চারপাশে ইতিমধ্যেই জমে আছে সেই ওক কাঠের আস্তরণের অন্তরাংশ, যাকে কৃমি খেয়ে ফাঁপা করে দিয়েছে।

নিশ্চয়ই এমন এক সময়ে, এমন এক ঘরে—যেখানে ক্ষুধা আর প্রবল চায়ে কল্পনা উত্তেজিত —সেখানে পূর্বতন বাসিন্দাদের ভূত দেখা যেতেই পারে। আমি তার কম কিছু আশাও করিনি। আগুনের শিখা দপদপ করছিল, ছায়ারা নাচছিল, আর অদ্ভুত সব ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি আমার মনে জীবন্ত হয়ে উঠছিল; কিন্তু সাত ফুট উঁচু ঘড়ি থেকে যখন গম্ভীরভাবে মধ্যরাতের ঘণ্টা বেজে উঠল, তখনও কিছুই ঘটল না। আমার কল্পনা যেন তাড়াহুড়ো করতে চাইছিল না, আর গভীর রাতের সেই শীতলতা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল; আমি প্রায় ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই যাচ্ছিলাম, এমন সময় পাশের হলঘর থেকে ভেসে এল সিল্কের পোশাকের খসখস শব্দ—যার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম এবং যা প্রত্যাশা করেছিলাম।
তারপর দুই জন করে প্রবেশ করলেন জ্যাকোবিয়ান যুগের উচ্চবংশীয় ভদ্রমহিলারা ও তাঁদের সঙ্গী ভদ্রলোকেরা। তারা ছিল প্রায় ছায়ামাত্র—অত্যন্ত গম্ভীর ছায়া, প্রায় অস্পষ্ট; তবে তোমরা সবাই নিশ্চয়ই ভূতের গল্প পড়েছ, আর জাদুঘরে সেই সময়ের পোশাকও দেখেছ—তাই তাদের বর্ণনা দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নেই। তারা কয়েকজন এসে পুরোনো চেয়ারগুলোতে বসলেন—সম্ভবত ট্যাপেস্ট্রির মূল্য বিবেচনা না করেই একটু অসতর্কভাবে। তারপর তাদের পোশাকের খসখস শব্দ থেমে গেল।

সত্যিই—আমি ভূত দেখেছিলাম, কিন্তু না আমি ভয় পেয়েছিলাম, না এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে ভূত সত্যিই আছে। আমি চেয়ার থেকে উঠে শুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় হলঘর থেকে টুপটাপ শব্দ ভেসে এল—খালি পায়ে কেউ মসৃণ মেঝের ওপর দিয়ে হেঁটে আসছে যেন। মাঝে মাঝে পা পিছলে যাচ্ছিল, আর কাঠের ওপর নখের ঘষাঘষির শব্দ শোনা যাচ্ছিল—মনে হচ্ছিল কোনো চারপেয়ে প্রাণী ভারসাম্য হারিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। আমি ভয় পাইনি, কিন্তু অস্বস্তি হচ্ছিল।

সেই টুপটাপ শব্দ সোজা আমার ঘরের দিকেই এগিয়ে এল, তারপর শোনা গেল অপেক্ষারত নাসারন্ধ্রের শোঁ-শোঁ শব্দ; ‘অস্বস্তি’ শব্দটা হয়তো আমার তখনকার অনুভূতিকে ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। হঠাৎই বড় বড় কালো কিছু জীব, রক্তশিকারি কুকুরের চেয়েও বড়, ছুটে ঘরে ঢুকে পড়ল; তাদের বড় ঝোলা কান, নাক মাটির দিকে ঝুঁকে শুঁকছে, তারা বহু আগেকার সেই ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলাদের কাছে গিয়ে ঘেঁষাঘেঁষি করতে লাগল একেবারে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে। তাদের চোখগুলো ভয়ঙ্কর উজ্জ্বল, যেন অসীম গভীরতায় নেমে গেছে। আমি যখন তাদের চোখের দিকে তাকালাম, তখন হঠাৎই বুঝতে পারলাম তারা কী—আর তখনই আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম। তারা ছিল সেই সভ্য, অভিজাত পুরুষ ও নারীদের পাপ—অশুচি, অমর সব পাপ।

কী শান্ত, কী সংযত দেখাচ্ছিল সেই ভদ্রমহিলাকে—যিনি আমার কাছের এক পুরোনো চেয়ারে বসে ছিলেন; কত লাজুক, কত সুন্দর তিনি, অথচ তাঁর পাশেই, তাঁর কোলে চোয়াল রেখে বসে আছে এমন এক পাপ—যার গহ্বরের মতো লাল চোখ, একেবারে স্পষ্ট খুনের দৃষ্টান্ত।

আর তুমি—ওই দূরের সোনালি চুলের ভদ্রমহিলা? তুমি নও? অথচ দেখো, সেই ভয়ঙ্কর হলুদ চোখের জন্তুটা তোমার কাছ থেকে সরে ওই ভদ্রলোকের দিকে যাচ্ছে, আর কেউ তাড়ালেই আবার ফিরে আসছে তোমার কাছেই। ওদিকে এক ভদ্রমহিলা হাসার চেষ্টা করছেন, অন্যের পাপের সেই জঘন্য লোমশ মাথায় হাত বুলিয়ে; কিন্তু তাঁর নিজের একটি পাপ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর হাতের নিচে ঢুকে পড়ছে।

এখানে এক বৃদ্ধ অভিজাত ব্যক্তি তাঁর নাতিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন, আর তাঁরই এক বিশাল কালো পাপ শিশুটির মুখ চাটছে, যেন তাকে নিজের করে নিয়েছে। মাঝে মাঝে কোনো ভূত উঠে অন্য চেয়ারে বসতে যায়, কিন্তু তার পাপের দল সবসময়ই তার পেছনে পেছনে চলে যায়। হায়, অসহায় ভূতেরা! এই দুই শতাব্দী ধরে তারা কতবার যে তাদের ঘৃণিত পাপ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে, কত অজুহাত যে দিয়েছে তাদের উপস্থিতির ব্যাখ্যায়—তবুও সেই পাপগুলো তাদের সঙ্গেই রয়ে গেছে, আজও —– অমোচনীয় এবং অমীমাংসিত।

হঠাৎ তাদের মধ্যে একটি যেন আমার জীবন্ত রক্তের গন্ধ পেয়ে গেল; সে ভয়ঙ্করভাবে হুঙ্কার ছাড়ল, আর সঙ্গে সঙ্গে অন্য সবগুলো তাদের নিজ নিজ ভূতদের ছেড়ে সেই ডাক দেওয়া পাপটির দিকে ছুটে এল। সেই জন্তুটি দরজার কাছে—যে দরজা দিয়ে আমি ঢুকেছিলাম—আমার গন্ধ পেয়েছিল, আর তারা ধীরে ধীরে মেঝে শুঁকতে শুঁকতে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল, মাঝে মাঝে সেই ভয়ঙ্কর ডাক ছাড়ছিল।
আমি বুঝলাম, ব্যাপারটা অনেক দূর গড়িয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে তারা আমাকে দেখে ফেলেছে—এখন তারা চারদিক থেকে আমাকে ঘিরে ফেলেছে; তারা লাফিয়ে উঠছে, আমার গলায় পৌঁছতে চাইছে; আর যখনই তাদের নখ আমাকে স্পর্শ করছে, তখনই ভয়ংকর চিন্তা আমার মনে ঢুকে পড়ছে, আর অকথ্য বাসনা আমার হৃদয়কে গ্রাস করছে। তারা যখন আমার চারপাশে লাফাচ্ছিল, তখন আমি পশুর মতো নিষ্ঠুর কাজের এক পরিকল্পনা করতে লাগলাম—আর তা করছিলাম এক অদ্ভুত দক্ষ কৌশলে।

সেই লোমশ জন্তুগুলোর মধ্যে এক বিশাল লালচোখা ‘খুন’-এর পাপ সামনে এগিয়ে এসেছিল, যার হাত থেকে আমি দুর্বলভাবে আমার গলা রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎই আমার মনে হল—আমার ভাইকে হত্যা করে দিলে ভালো হয়। আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হল—আমি যেন কোনো শাস্তির ঝুঁকি না নিই। আমি জানতাম, রিভলভার কোথায় রাখা আছে; তাকে গুলি করার পর আমি তার দেহ সাজিয়ে দেব, মুখে ময়দা মাখিয়ে দেব—যেন সে ভূতের মতো সেজেছিল। ব্যাপারটা খুব সহজ হবে। আমি বলব—সে আমাকে ভয় দেখিয়েছিল—আর চাকররা তো আমাদের ভূত নিয়ে কথা বলতে শুনেছিলই। এক-দু’টি ছোটখাটো বিষয় ঠিক করতে হবে বটে, কিন্তু কিছুই আমার মাথা এড়ায়নি।

হ্যাঁ, সেই প্রাণীর লাল গভীর চোখের দিকে তাকিয়ে আমার কাছে খুবই ভালো মনে হচ্ছিল—আমি যেন আমার ভাইকে হত্যা করি। কিন্তু যখন তারা আমাকে টেনে নিচে ফেলছিল, তখন শেষ এক প্রচেষ্টায় আমি বললাম—
“যদি দুটি সরলরেখা একে অপরকে ছেদ করে, তবে বিপরীত কোণগুলি সমান হয়। ধরা যাক AB এবং CD রেখা E বিন্দুতে একে অপরকে ছেদ করেছে; তবে কোণ CEA এবং CEB দুটি সমকোণের সমান। আবার, কোণ CEA এবং AED-ও দুটি সমকোণের সমান।”

আমি রিভলভারটা আনতে দরজার দিকে এগোলাম; জন্তুগুলোর মধ্যে এক ভয়ঙ্কর উল্লাস জেগে উঠল।—

“কিন্তু কোণ CEA সাধারণ, সুতরাং AED সমান CEB। একইভাবে CEA সমান DEB। QED।”

প্রমাণ সম্পন্ন হল। যুক্তি ও বিচারবুদ্ধি আবার আমার মনে ফিরে এল; কোনো অন্ধকার পাপ-শিকারি কুকুর আর ছিল না, ট্যাপেস্ট্রিতে মোড়া চেয়ারগুলোও খালি পড়ে ছিল। আমার কাছে তখন একেবারেই অকল্পনীয় মনে হচ্ছিল—একজন মানুষ তার ভাইকে হত্যা করতে পারে।

লেখক পরিচিতি

লর্ড ডানসেনি   (২৪ জুলাই ১৮৭৮ – ২৫ অক্টোবর ১৯৫৭)  ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ লেখক ও নাট্যকার। তাঁর  পুরো নাম হলো  এডওয়ার্ড জন মোরেটন ড্রাক্স প্লাঙ্কেট। তিনি ছিলেন আয়ারল্যান্ডের ডানসেনি দুর্গের ১৮তম ব্যারন। সাহিত্য জগতে তিনি মূলত ‘লর্ড ডানসেনি’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। 


তিনি Royal Society of Literature-এর ফেলো (FRSL) এবং Royal Geographical Society-এর ফেলো (FRGS) ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি ৯০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেন। তাঁর রচনার মধ্যে ছিল কয়েকশো ছোটগল্প, নাটক, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ। মৃত্যুর পরেও তাঁর আরও কিছু লেখা প্রকাশিত হয়।

১৯১০-এর দশকে ইংরেজি সাহিত্যজগতে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। আজ তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর ১৯২৪ সালের ফ্যান্টাসি উপন্যাস The King of Elfland’s Daughter-এর জন্য। এছাড়া তাঁর প্রথম বই The Gods of Pegāna-য় একটি কল্পিত দেবতাদের জগৎ (pantheon) তুলে ধরা হয়েছে।
অনেক সমালোচকের মতে, তাঁর প্রারম্ভিক রচনাগুলো আধুনিক Fantasy genre-এর ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমান গল্পটি গথিক ও ফ্যান্টাসির এক অনন্য মিশ্রণ, যেখানে অতিপ্রাকৃত পরিবেশের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্গত পাপ, যুক্তি এবং কল্পনার সংঘাতকে তুলে ধরেছেন লেখক। এটির প্রকাশকাল: ১৯০৮। The Sword of Welleran and Other Stories নামের গ্রন্থে এ গল্পটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

অনুবাদক পরিচিতি
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পেশায় স্কুলশিক্ষক। সাহিত্য এবং সংগীতই তাঁর জীবন। সংগীত বিষয়ক গবেষণার পাশাপাশি নিয়মিত অনুবাদ করেন বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

spot_img

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

ঔপন্যাসিক ইয়াং যুয়ান জি’র সাক্ষাৎকার

অনুবাদ : স্বাতীলেখা মিত্র 'তাইওয়ান ট্রাভেলগ' লেখার পেছনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে...

তিন টুকরো চিন্তা : রবীন্দ্র প্রাসঙ্গিক

মার্ক্সিস্ট স্কুলের সামান্য ছাত্র হিসেবে জানি, একটা গল্প কে...

রবীন্দ্রমন : নানা বয়সে

রবীন্দ্রনাথ একের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জন। ভিন্ন জনের সমাবেশ...

স্থাপত্য আর রবীন্দ্রগান : দুই

স্থাপত্য  আর রবীন্দ্রগানের আন্ত:সম্পর্ক বিষয়ে নিউজ থ্রিসিক্সটিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন...