বুলগেরিয়ার ডারা ইউরোভিশনে এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণের কারণে বেশ কয়েকটি দেশ বয়কট করে। ফলে এবারের ইউরোভিশন ছিলো রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন বুলগেরিয়ার ডারা।
আশা করা হয়েছিলো, মানুষের মনে সহজেই জায়গা করে নেয়া ক্লাব হিট গান গান ‘বাঙ্গারাঙ্গা’ সহজ সুন্দর কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় ভালো করবে। তবে এক শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসরায়েলকে হারিয়ে এই গান জুরি এবং সাধারণ দর্শক উভয়ের ভোটেই আশ্চর্যজনকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
শেষ পর্যন্ত, এই গায়িকা এক সত্যিকারের জয় উপভোগ করেছেন। তিনি ইসরায়েলের নোয়াম বেটানের চেয়ে ১৭৩ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের ঘটনা এটি।
তাঁর জিতে যাওয়া পপ গানের প্রতিযোগিতায় বুলগেরিয়ার প্রথমবার জেতা। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম জুরি বোর্ড এবং সাধারণ জনগণ একই বিজয়ীর পক্ষে একমত হলেন।
ইউরোভিশনের ইতিহাসে বুলগেরিয়ার জয় এটাই প্রথম। তবে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় শনিবারের জমকালো ফাইনালের সব আনন্দ ও জাঁকজমকের মাঝেও, এই গানের প্রতিযোগিতাটি রাজনীতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। এই প্রতিযোগিতায় মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে থাকেন। তাঁরা দর্শক ও বিচারকদের ভোটে বিজয়ী হতে প্রতিযোগিতা করেন। ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে এবার পাঁচটি দেশ—স্পেন, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্লোভেনিয়া এবং নেদারল্যান্ডস—প্রতিযোগিতাটি বর্জন করে। পাঁচটি দেশের বয়কটের ঘটনা ইভেন্টের সত্তর বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে।
”ইউরোভিশনে অংশগ্রহণ নয়, ইতিহাসের সঠিক পক্ষে থাকার প্রত্যয় নিয়েই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ,” স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত শুক্রবার বলেছেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ১৬ মে, এ বছরের ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। বিপুল সংখ্যক আগ্রহী শ্রোতা, ভক্ত আনন্দময় ও জমকালো এই অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছেন। শনিবার আয়োজনের মূল মঞ্চের বাইরে কিছু মানুষ ক্লাউনের পোশাক পরে একটি সাইনবোর্ড বহন করছিলেন, যাতে লেখা ছিল “গণহত্যায় ঐক্য”। এই স্লোগান প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল স্লোগান “সংগীতে ঐক্য”-এর একটি তুমুল স্যাটায়ার।
ইসরায়েল স্বভাবতই যেকোনো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাত অক্টোবরের হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় তাদের যুদ্ধটি একটি গণহত্যা- এই অভিযোগটিও তারা পাত্তা দেয়নি। যদিও গত মঙ্গলবারের সেমিফাইনালের মতো ইসরায়েলের নোয়াম বেটানের পরিবেশনার সময় টিভি সম্প্রচারে কোনো আপত্তিকর শব্দ শোনা যায়নি, তবে ভোটের পর্যায়ে তিনি যখন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এগিয়ে যান, তখন পুরো অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে উচ্চস্বরে দুয়ো ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। শ্রোতারা তখন ভেতর থেকেই ঘৃণা জানিয়েছেন।
প্রতিযোগিতার বাকি অংশটি যথারীতি হেভি মেটাল, ড্যান্স বপ্স এবং পাওয়ার ব্যালাডের বহুবর্ণিল প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়। সেগুলোর মধ্যে ছিল ক্রোয়েশিয়ার ফোক-পপ গান “অ্যান্ড্রোমিডা”।এই ফোক পপ ঘরানার গান ঐতিহ্যবাহী ক্রোয়েশিয়ান সঙ্গীতের সাথে আধুনিক পপের মিশ্রণ ঘটিয়েছিলো। ফ্রান্সের অপেরা-অনুপ্রাণিত ট্র্যাক “রেগার্দে!” আর লিথুয়ানিয়ার লায়ন চিচাহ, “সোলো কিয়েরো মাস” গাওয়ার সময় শরীর ঢেকে রেখেছিলেন সিলভার কালারে। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পরিবেশনার শেষে তিনি বলেন, “মানবজাতি, আমি তোমাদের ভালোবাসি।” ফিনল্যান্ডের লিন্ডা ল্যাম্পেনিয়াস এবং পিট পারকোনেন “লিয়েকিনহেইতেন” গানটি পরিবেশন করেন।
জুয়াড়িদের প্রিয় বাজি ছিলো ফিনল্যান্ড। তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন পিট পারকোনেন এবং লিন্ডা ল্যাম্পেনিয়াস। তাঁরা আতশবাজির জমকালো মঞ্চায়ন, রাগী লিরিক্স এবং ভায়োলিনের একক সুরের সমন্বয়ে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। অস্ট্রেলিয়ার ডেল্টা গুডরেম, নিজের দেশের একজন প্রকৃত পপ তারকা, শক্তিশালী কণ্ঠ তাঁকে অন্যতম ফেভারিট করে তুলেছিলো, তিনি চতুর্থ স্থান লাভ করেন। রোমানিয়ার আলেকজান্দ্রা ক্যাপিস্তানেস্কু তৃতীয় হয়েছেন।
ইউরোভিশনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রতিযোগিতাটি তাদের বিজয় উদযাপনের জন্যে বুলগেরিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


