বিশ্বকাপ ফুটবল: রেকর্ডের অপেক্ষা

Date:

মাত্র এগারো দিন গড়ালো ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল। কিন্তু এই কয়েকদিনেই বিশ্ব প্রতিযোগিতাটি অনেক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। পরস্পরকে অতিক্রম করবার লড়াইয়ে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্ড, প্রত্যেকেই যার যার দেশের উদ্বোধনী খেলায় দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছেন। পৃথিবীর অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো তাঁর প্রথম খেলায় নিষ্প্রভ। এই পরিস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা ও ট্রল তৈরি করেছে কিন্তু আমরা নিশ্চিত পরের দুই খেলায় তিনি জ্বলে উঠবেন এবং পর্তুগালকে পরের রাউন্ডে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

৪৮টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রথম এই বিশ্বকাপের বড় তারকারা যখন তাঁদের দ্বিতীয় ম্যাচে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন মনে হচ্ছে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।আর্জেন্টিনার মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপের গৌরবময় অধ্যায় আরও দীর্ঘ করা থেকে শুরু করে, ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে এমবাপ্পের শীর্ষস্থান দখল করা। এই কয়েকটি মাত্র দিনেই ভেঙে যাওয়া বা ভাঙার অপেক্ষায় থাকা প্রধান রেকর্ডগুলোর ওপর চোখ বুলাচ্ছে বিবিসি স্পোর্ট।

ফুটবল ঈশ্বরের বরপুত্র মেসি সক্ষম হবেন নতুন বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড নির্মাণে?

২০২২ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৪ সাল থেকে জার্মানির স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা ১৬টি গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে মেসির অনবদ্য হ্যাটট্রিক ভূমিকা রেখেছে। তার ফলে আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে চলে এসেছেন। এখন তিনি এককভাবে চূড়ায় বসার অপেক্ষায় আছেন।

১৬টি গোল করতে মেসির মাঠে নামার প্রয়োজন হয়েছে সাতাশ বার । ক্লোসার চেয়ে তিনবার বেশি।
তার ঠিক পেছনেই ১৪টি গোল নিয়ে রীতিমত ঘাড়ে উঁকি দিচ্ছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে। তিনি ইতিমধ্যেই ৫৮টি গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন এবং তাঁর চোখও থাকতে পারে বিশ্বকাপের এই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের দিকে। হ্যারি কেইন আরও ৪টি গোল পিছিয়ে আছেন। এই টুর্নামেন্টে তাঁর পক্ষে এতদূর যাওয়ার সম্ভাব্যতা প্রশ্ন সাপেক্ষ। গ্রুপ ‘জে’-তে মেসি ও তাঁর দলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। আমরা কি তবে একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রত্যক্ষ করতে চলেছি আজ রাতে?

গ্যারি লিনেকারের ইংল্যান্ড রেকর্ড কেইন অটুট থাকতে দেবেন?

হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৫ ম্যাচে ৮১টি গোল করেছেন। মেসি, হালান্দ এবং এমবাপ্পে সবাই বল জালে জড়ানোর পর গত বুধবার ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ৪-২ ব্যবধানের জয়ে কেইন ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দিলেন তিনি তীব্রভাবেই বিশ্বকাপের এই প্রতিযোগিতার পরিসরে উপস্থিত আছেন। থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক ডালাসে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষে নিয়ে গেছেন। ফলে এখন তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে দশ গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গ্যারি লিনেকারের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন।আগামী মঙ্গলবার রাতে ঘানার বিরুদ্ধে ম্যাচ থাকায়, কেইন হয়তো বেশিদিন লিনেকারের পাশে থাকবেন না। বুধবারের খেলার অর্থ এই-ও যে কেইন ইংল্যান্ড দলের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন। এই কৃতিত্বের পূর্বে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬ সালে স্যার ডেভিড বেকহ্যাম এই কীর্তি গড়েছিলেন। ক্রোয়েশিয়ার সাথে খেলাটি ছিল কেইনের ১১৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এটি তাঁকে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি মাঠে নামা খেলোয়াড়দের তালিকায় বেকহ্যামের সমকক্ষে নিয়ে এসেছে।

একাধিক গোল্ডেন বুট জয় একজনের পক্ষে সম্ভব?

এমবাপ্পের কথায় ফিরে আসি। তিনি কি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জিততে যাচ্ছেন? ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইন তা করবেন? এমবাপ্পে ২০২২ সালে কাতারে আটটি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তবে এই সম্মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি। রেকর্ডের দিকে নজর রাখা কেইন-ও ২০১৮ সালে ছয়টি গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। মেসি, জার্মানির ডেনিস উন্দাভ এবং কানাডার জোনাথন ডেভিড বর্তমানে তিনটি গোল করে এগিয়ে আছেন। তবে কেইন, হালান্দ এবং এমবাপ্পে তাঁদের চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক লড়াই হতে যাচ্ছে। যদিও কানাডা যেহেতু বেশিদূর যেতে পারবে না জোনাথন ডেভিডের খুব বেশি আশা করবার নেই।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড

প্রথম খেলায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর সময় ভালো যায়নি। জীবনানন্দের কবিতার মতই সারা মাঠ জুড়ে যেন হাজার বছর ধরে পথ হেঁটেছেন তিনি। পর্তুগালের হয়ে ২২৯ ম্যাচে ১৪৩টি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো। কোনো এক পর্যায়ে রোনাল্ডোর এখানে নাম আসাই স্বাভাবিক ছিল। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের আকস্মিক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স নিষ্প্রভ হতে পারে। তবে একটি রেকর্ড সবসময়ই তাঁর হাতের নাগালে থাকে।

২০২২ সালে রোনাল্ডো পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) গোল করে সর্বাধিক বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে মেসি ইতিমধ্যেই সেই রেকর্ডের সমতা ছুঁয়েছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের আসরে রোনাল্ডোর আর একটি গোল এই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীকে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব এনে দেবে। তিনি পারবেন তো?

রোনাল্ডো সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়

বিশ্বকাপে আটটি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তবে উদ্বোধনী ম্যাচেই তাঁর একটি রেকর্ড ভেঙে যায়। হিউস্টনের মাঠে নেমে এই পর্তুগিজ তারকা মেসির সাথে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন।তিনি ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে ম্যাচ শুরু করা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও হয়ে যান। এই রেকর্ডটি আগে কানাডার আতিবা হাচিনসনের দখলে ছিল। তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ ম্যাচে ৩৯ বছর ২৯৬ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন।

হালান্ড হতে পারবেন নরওয়ের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতা?

ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের ৪-১ ব্যবধানের জয়ে আর্লিং হালান্ডের বিশ্বকাপ অভিষেক হয়। রেকর্ড ভাঙার খেলার মাঠে হালান্ড সবসময় নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি থাকেন। ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে দুইবার গোল করতে নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের মাত্র বিশ বার বল স্পর্শ করার প্রয়োজন হয়েছিল। এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জোড়া গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকালের যৌথ শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে কেতিল রেকডালের সমকক্ষ হতে হালান্ডের মাত্র একবার মাঠে নামার প্রয়োজন হয়েছিল।মঙ্গলবার সকালে সেনেগালের মুখোমুখি হওয়ার সময় তিনি রেকডালকে ছাড়িয়ে একলা যাত্রার পথিক হতে পারেন।

ভোজিনহা পায়ে ঠেলেছেন বয়সের বাধা

একটা বয়সের পর অ্যাথলেটদের পারফর্ম করবার সামর্থ্য কমতে থাকে। কিন্তু ভোজিনহা নিজের সকল সীমাবদ্ধতা বীরত্বের সাথে অতিক্রম করছেন।স্পেনের সাথে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য ড্রয়ের পর তাঁকে অশ্রুসিক্ত দেখাচ্ছিল। ভিসা জটিলতায় তাঁর মা ছেলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি। ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হওয়া সত্ত্বেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আলোচনায় পরিণত হয়েছেন। দ্বিতীয় খেলায় উরুগুয়ে দলটিকে দুই দুই গোলে রুখে দিয়েছে কেপ ভার্দে। খেলাটি গ্যালারি থেকে উপভোগ করেন এই দুরন্ত গোলকিপারের মা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ আনন্দের।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অভিষেক ম্যাচে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিতে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। পাশাপাশি নিজেও কিছু রেকর্ড গড়েন। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে তিনি কোনো দেশের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হয়েছেন। এই উপস্থিতি কুরাসাওয়ের এলয় রুমের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এসব ছাড়াও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের অভিষেক ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক গোলরক্ষক হিসেবেও তিনি নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে দ্যুশম্প

দিদিয়ের দ্যুশম্প ফ্রান্সের খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দ্যুশম্প বিশ্বকাপে একজন ম্যানেজার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছোঁয়ার থেকে মাত্র একটি জয় দূরে আছেন। ১৬টি জয় নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পশ্চিম জার্মানির সাবেক ম্যানেজার হেলমুট শ্যোন। ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্স জয় পেলে দ্যুশম্প তাঁর সমকক্ষ হবেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৭টি জয় নিয়ে তিনি একটি নতুন রেকর্ড গড়বেন। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড শেষ করার জন্য এর চেয়ে দারুণ ঘটনা আর কী-ই বা হতে পারে!

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড

২০২২ বিশ্বকাপে মাত্র একটি সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৮টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ডটি হয়েছিল ২০০৬ সালে। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে ছয়টি লাল কার্ড দেখানো হয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়। এর পরপরই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার তারিক মুহারেমোভিচ এবং কাতারের দুই খেলোয়াড় আসিম ওমের মাদিবো ও হোমাম এল আমিন লাল কার্ড পান। এই সংখ্যাটি গত দুই বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি। কাতার এবং রাশিয়ায় মোট চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড ভাঙতে এখনও অনেক বাকি। তবে সামনে এখনও প্রচুর ফুটবল ম্যাচ খেলা হওয়া বাকি আছে।

আমরা রাত জেগে, ঘুমের নিয়ম ছিন্ন করে দিয়ে, আনন্দ নিয়েই রেকর্ড ভাঙ্গার ও রেকর্ড করার, নতুন নতুন খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য সব কীর্তি দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।

বিবিসি স্পোর্টস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

spot_img

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

মেসি না রোনাল্ডো: একটি সমীক্ষা

ফ্যানদের কেউ কেউ কেন মেসির চেয়ে রোনাল্ডোকে বেশি পছন্দ...

অসির চেয়ে মেসি বড়

২০২২ বিশ্বকাপ। পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ৩৯...

অর্থনীতিবিদ কেন জ্যোতিষী!

ভবিষ্যতের কথা বলতে পারা পল দ্য অক্টোপাসের কথা মনে...

কে এই এনরিকে মাকায়া মার্কেজ ?

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কথা কে না জানে! আজ আমরা জানবো...