‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া দ্য গ্রেট’ একটি গ্রামীণ কমেডি ড্রামা। নাটকের গল্প শুরু হয় খুব সাধারণ একটি ঘটনা থেকে। চায়ের দোকানে কথার খোঁচাখুঁচি, তারপর ঝগড়া, আর সেই ঝগড়া থেকেই মিয়া পাড়া ও দেওয়ান পাড়ার মধ্যে বড় সংঘাত তৈরি হয়। ছোট একটি বিষয় কীভাবে গ্রামের মানুষের সম্মান, অহংকার আর প্রতিশোধের কারণে বড় ঝামেলায় রূপ নেয়, নাটকটি সেটাই দেখিয়েছে।
নাটকের সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর গ্রামের পরিবেশ। চায়ের দোকান, পাড়ার মানুষ, দল বেঁধে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া, কেউ আসল ঘটনা না জেনেই পক্ষ নেওয়া, এসব বিষয় খুব পরিচিত মনে হয়। অনেক সময় বাস্তব জীবনেও এমন দেখা যায়, ছোট কথা থেকে বড় ঝগড়া তৈরি হয়। এই নাটক সেই বিষয়টাকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।
সজল ও শিউলির সম্পর্ক গল্পে আলাদা একটা আবেগ যোগ করেছে। তাদের বিয়েকে কেন্দ্র করেই ঝামেলার শুরু, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। সজল বিপদে পড়ে লুকিয়ে থাকে, আর শিউলি তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। এর মধ্যে মিলনের বুদ্ধি করে সজলকে বোরকা পরিয়ে বের করার চেষ্টা নাটকে মজার মুহূর্ত তৈরি করে।
নাটকটিতে হাসি আছে, উত্তেজনা আছে, প্রেম আছে, আবার গ্রামের সমাজের কিছু বাস্তব ছবিও আছে। বিশেষ করে মানুষ কীভাবে না জেনে না বুঝে উত্তেজিত হয়ে পড়ে, সেটি খুব সহজভাবে দেখানো হয়েছে। পুলিশ আসার পর সবার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও বেশ মজার এবং নাটকের কমেডির জায়গাকে আরও শক্ত করেছে।
সব মিলিয়ে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া দ্য গ্রেট’ একটি সহজ, মজার এবং বিনোদনমূলক নাটক। যারা গ্রামীণ গল্প, পাড়ার ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি আর হালকা কমেডি পছন্দ করেন, তাদের জন্য নাটকটি ভালো লাগতে পারে। নাটকটি শুধু হাসায় না, একই সঙ্গে ভাবায়ও যে সামান্য কথার ঝগড়া কখনো কখনো কত বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।


