লিসা হুয়াঙ। মায়ের ভাষা চৈনিক, পড়েছেন মান্দারিনে আর বেড়ে উঠছেন ফ্রান্সে ৷ টাইপোগ্রাফি এবং টাইপ ডিজাইন পড়তে গিয়ে, পরিভাষার জটিলতায় পড়েন তিনি । তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, পাঠ্য বিষয়ের প্রয়োজনীয় সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। বেশির ভাগ শব্দ ইংরেজিতে, এই ভাষার তাঁর নিজের নয়। গুগল ট্রান্সলেটর ঠিকঠাক দিশা দেয়ার বদলে বিভ্রান্ত করছে বেশি। চৈনিক টাইপোগ্রাফি এবং টাইপ ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে আরও বড় সমস্যায় পড়তে হলো। দরকারি শব্দের অনুবাদ পেতে তিনি প্রচুর নোট নেয়া শুরু করলেন। একটি শব্দ একাধিক ভাষাপ্রবাহের চলনে কেমন আচরণ করে- এই বিষয়টি গভীরভাবে আত্মস্থ করতে চাইলেন তিনি।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও তাঁকে ভাবতে হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে (১) তিনি ইয়েহাঙ ইনের কথা জানান। প্রযুক্তির মাধ্যমে টাইপ ডিজাইন নির্মাণের সময় হয়তো কমানো যায়- অ্যাটাইপাল কনফারেন্সে বলছিলেন ইয়েহাঙ। কিন্তু, এই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী যন্ত্রেও চৈনিক অক্ষরের চরিত্রকে ধরা কঠিন, কেন না অক্ষরগুলোর এক ধরণের জৈবিক চরিত্র আছে। কয়েক সহস্রাব্দ জুড়ে হাতে লিখেই চৈনিক অক্ষরেরা বিবর্তিত হয়েছে। এরা অনেকখানি চিত্রকলার কাছাকাছি ফলে বাণিজ্যিকভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই টাইপ ফেসের ডিজাইনে কাঙ্ক্ষিত ফল আসাটা এখনও কঠিন।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও তাঁকে ভাবতে হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে (১) তিনি ইয়েহাঙ ইনের কথা জানান। প্রযুক্তির মাধ্যমে টাইপ ডিজাইন নির্মাণের সময় হয়তো কমানো যায়- অ্যাটাইপাল কনফারেন্সে বলছিলেন ইয়েহাঙ। কিন্তু, এই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী যন্ত্রেও চৈনিক অক্ষরের চরিত্রকে ধরা কঠিন, কেন না অক্ষরগুলোর এক ধরণের জৈবিক চরিত্র আছে। কয়েক সহস্রাব্দ জুড়ে হাতে লিখেই চৈনিক অক্ষরেরা বিবর্তিত হয়েছে। এরা অনেকখানি চিত্রকলার কাছাকাছি ফলে বাণিজ্যিকভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই টাইপ ফেসের ডিজাইনে কাঙ্ক্ষিত ফল আসাটা এখনও কঠিন।
স্কলার রাউন্ড- একটি বিশেষ টাইপফেস কেবলমাত্র ওয়ার্ডস অফ টাইপের জন্যেই ডিজাইন করা হয়েছে। পুরনো দিনের রিবনের টাইপ রাইটারের কথা মনে পড়ায় এই টাইপফেস। ফলে, এক ধরণের নস্টালজিয়াও মিশে থাকে নতুন জিনিস জানতে থাকার পাশাপাশি। একটি মেনিফেস্টো আছে তাঁদের। কেউ যদি তন্নিষ্ঠ হয়ে পড়েন, সাতটি শিরোনামে বিভক্ত গদ্যটির মধ্যে এক আন্তরিক প্রাণপ্রবাহ পাবেন। যেমন প্রথমেই আছে – অ্যাক্সেসিবিলিটির কথা। তারপর নিখুঁত ও সহজ করে তোলার প্রয়োজনীয়তা। সমতার কথা ভুলছেন না তাঁরা। পরিভাষাগত সমস্যা সমাধান করতে গেলে ভিন্ন ভাষার মধ্যে মান, অর্থ ইত্যাদির সমতা বিধান হয় না অনেক ক্ষেত্রে। চতুর্থত বলছেন তাঁরা- ওয়ার্ডস ফর হিউম্যান। বহুমাত্রিকতা, নতুন আবিষ্কার, অর্জিত তথ্য পরস্পরে ভাগ করে নেয়া ও আরও নতুনের জয়ধ্বনির জন্য অনুসন্ধানী হওয়া। এবং শেষে বলছেন – লার্ন, প্র্যাকটিস, মিট- শেখো, চর্চা করো, দেখা করো। ওয়ার্ডস অফ টাইপে এক সমবায়ী উদ্যোগ দেখি আমরা যা মূলত অবাণিজ্যিক। প্রসঙ্গত, তাঁর প্রথম কিকস্টার্টার তথা অর্থ সংগ্রহ অভিযান লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। কিন্তু, লিসা অদম্য। এই মুহূর্তে তাঁরা নিয়মিত সেমিনার করছেন। নোটিশ বোর্ডে আসন্ন সভার খবরও থাকে। বিষয়ভিত্তিক আয়োজনও গত দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি। শব্দার্থ বিবরণীর পাঠ অভিজ্ঞতা সহজ ও আনন্দময়। অল্প কিছু পয়সায় সভ্য হলে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। যদিও, যে কেউই এই ওয়েবসাইট দেখে, পড়ে বন্ধুদের সাথেও ভাগ করে নিতে পারেন। হরফে আগ্রহী জনেদের কাছে এ এক মহাভোজ। আধুনিকতর একটি সংস্করণ নির্মীয়মান, নোটিশ বোর্ডে বলছেন তাঁরা। এই আকালের দিনে এই বিন্দু আনন্দ কম নয়।

