আর্থার কোনান ডয়েলের অজানা কবিতা

Date:

স্যার আর্থার কোনান ডয়েল জগৎ বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস ‘পিটার প্যান ‘ স্রষ্টা জেমস ব্যারির সাথে ক্রিকেট খেলছেন, ‘প্রিজনার অফ জেন্ডা’-র লেখক অ্যান্থনি হোপ  তাঁর সহ খেলোয়াড় অথবা ‘ দ্য জাঙ্গল বুক ‘ লেখক রুডিয়ার্ড কিপলিং এবং তিনি  ভারমন্টের মাঠে গল্ফ খেলছেন – এই তথ্য জানলে আমাদের মনে হতেই পারে ডয়েলের পুরো জীবনটাই বোধহয় এমন আনন্দে পূর্ণ ছিলো। তিনি ওই সময়ের শ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের জন্য নাটক লিখছিলেন – থিওডর রুজভেল্ট, উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে নিয়মিত রাতের খাবার সারেন,  প্রিন্স অফ ওয়েলস এক গেলাসের ইয়ার – এসব রূপকথার মত শোনায়। সবার আগ্রহের কেন্দ্রে আসার আগে যাত্রাপথ কেমন ছিলো তাঁর? 

জেমস রায়ান, ডয়েলের সারা জীবনের বন্ধু তাঁকে বলতেন, ‘ তুমি যে চিঠিতে তারিখ দাও না এইজন্য জীবনীকাররা তোমায় অভিম্পাত দেবেন। ‘ তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন প্রথম জীবনে, খেলোয়াড় হিসেবে নাম করেছিলেন, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে প্রতিবাদী অধিকার কর্মী ছিলেন, ওয়ার করেসপন্ডেন্ট, সামরিক ইতিহাসবিদ এবং শেষ পর্যন্ত প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন আস্ত একটা ধর্ম। তার সৃজিত রোমাঞ্চ কাহিনীর মতোই ছিল তার জীবন। প্রায় সময় আর্থার কোনান  ডয়েলের কার্যক্রম তীব্র বিতর্কের শীর্ষে অবস্থান করতো। আর লিখতেন প্রচুর চিঠি- নামী, অনামী সবাইকেই।

ছাত্র হিসেবে মন্দ ছিলেন না তবু চিকিৎসা বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই অস্বস্তিকর সময় কাটাতে হয়েছিলো। তিমি শিকারের জাহাজে ডাক্তার হিসাবে ছয় মাস পার করে  কিছুটা মুক্তির আনন্দ তিনি উপভোগ করতে পেরেছিলেন।  যদিও বরফের বিশাল টুকরোতে একবার জীবন সংশয়ের সামনে পড়েছিলেন। কোনান ডয়েল এসেছিলেন বিখ্যাত এক চিত্রকর পরিবার থেকে যাদের শিকড় ছিল আইরিশ। অবশ্য তাঁর সময় এই

পরিবারটি ইংল্যান্ডে থাকতেন একাধিক প্রজন্ম জুড়ে।  জন ডয়েল, তাঁর ঠাকুরদা,  ছিলেন খুবই বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রী।  এইচ বি – এই আদ্যাক্ষরে স্বাক্ষর করতেন যেসব ছবিতে, সেই ছবিগুলো এখন ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা আছে। স্বনামধন্য ব্যঙ্গপত্রিকা পাঞ্চ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ করেছিলেন তাঁর এক কাকা রিচার্ড। আরেক কাকা জেমস ইংল্যান্ডের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যারনদের তালিকা করেছিলেন। দ্য ন্যাশনাল গ্যালারি অফ আয়ারল্যান্ড প্রতিষ্ঠাতা ডয়েলের অন্যতম এক কাকা হেনরি। ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি অভিধানে আর্থার  কোনান ডয়েল সহ তিন প্রজন্মের জীবনী লিপিবদ্ধ আছে।

বাবা  চার্লস আলটামন্ট ডয়েলও একজন চিত্রকর ছিলেন। পৌরসভায় কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবনসঙ্গীর দেখা পান। ভিক্টোরিয়ান ব্রিটিশদের তুলনায় স্ত্রী ছিলেন স্বশিক্ষিত। ‘রেভ্যু দ্যো দ্যু মন্ড ‘ পত্রিকা থেকে দুনিয়ার খবর আহরণ করতেন এবং ফরাসীতে অনর্গল কথা বলতে পারতেন। দক্ষ ছিলেন কুলচিহ্নবিদ্যায়। ইতিহাস  এবং বংশতালিকা অর্থাৎ অতীতের ঘটনা, মানুষ সম্পর্কে জানা মায়ের খুবই প্রিয় ছিল আর্থার মায়ের কাছ থেকেই এই দুটি বিষয়ে আগ্রহী হন। গবেষকরা বলেন, ঐতিহাসিক কাহিনীর প্রতি লেখকের মুগ্ধতা এবং চর্চা উৎস হচ্ছে মাতৃচরিতমানস। নিজেই বলেছেন- ‘ অবিরত চিঠি লেখার প্রতি আমার প্রেম, গল্প বলার ভেতরকার আগ্রহ এই সবকিছুই আমি পেয়েছি আমার মায়ের কাছ থেকে। ‘

আমরা সবাই জানি পৃথিবী জোড়া খ্যাতি পেয়েছেন শার্লক হোমসের সূত্রে। কিন্তু প্রফেসর চ্যালেঞ্জার এবং বিগ্রেডিয়ার  জেরার্ডের কথা ভুললে চলবে না। কিছু বিজ্ঞান কল্পকাহিনি আর অনেকটাই নির্জলা কল্পনা মিলিয়ে লেখা চ্যালেঞ্জার চরিত্রের উপাখ্যানমালা। আমাদের অনেকেরই মনে আছে,  আমরা ছেলেবেলায় সেবা প্রকাশনীর অনুবাদে পড়েছিলাম ‘বিষ বলয়’ আর ‘হারানো পৃথিবী’  যথাক্রমে ‘দ্য পয়জন বেল্ট’  আর ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ডে’-র অনুবাদ। পরেরটিকে নিয়ে কত ধরণের চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

লিখছিলাম এক বিগ্রেডিয়ারের কথা। জেরার্ড চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে সতেরোটি গল্প, একটি নাটক প্রণীত হয়। এক উপন্যাসেও অনেক জায়গা জুড়ে থাকেন । নেপোলিয়নের যুদ্ধের সময় এক ঘোড়সওয়ার অফিসার এই ভদ্রলোক, ফরাসী সেনাবাহিনির। অত্যন্ত সাহসী ভাবেন নিজেকে। শ্রেষ্ঠ সোর্ড ফাইটার হিসেবে জাহির করেন সব সময়। সুন্দরী সান্নিধ্যে গলে যান। সংক্ষেপে, লেখক তাঁকে গড়েছেন কৌতুক আবহে।  কবিত খুব বেশি লেখেননি। প্রায় সবই যুদ্ধ, পরিবেশ, সাম্রাজ্য সম্পর্কিত। তেমন একটি ছোটো কবিতার নমুনা অনুবাদের চেষ্টা করে আমাদের কৈশোরের প্রিয়তম ভিনভাষী লেখকের প্রতি শুভ বাসনা জানাই।

সাম্রাজ্য

১৯০২
তারা বলে এটির ছিলো মাটির পা,
তাই পতন নিশ্চিত ও দ্রুত।
গতকালের অগ্নিশিখায়
সকল মাটি পুড়ে হয়েছিলো ইট।
যখন তারা আমাদের সমাধিফলক লিখতে এলো
আর চিহ্নিত করলো আহ্বানদূর পতিত হিসেবে,
‘আমরা’, আমরা ফিরে বলাম, জোরে হেসে,
‘ সাম্রাজ্যটাই তো ফুটে যাচ্ছে হে পতনের দিকে’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

বৃত্ত

“সমস্যাটা কি খুব জটিল?” ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলেন রহমান...

স্বপ্নমঙ্গলের কথা

ফেরদৌস আরা আলীম স্বপ্নদেবের উপর শচীদেবীর আস্থা আজও অবিচল। স্বপ্নের...

কবিতা বলতে আমি যা বুঝি

কবিতা এই সময়ে কারা লেখে এবং কেন লেখে এটাই...

নাচ দেশে দেশে

নাচ ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে একটি গল্পকে বিশ্বের...