স্বপ্নমঙ্গলের কথা

Date:

ফেরদৌস আরা আলীম

স্বপ্নদেবের উপর শচীদেবীর আস্থা আজও অবিচল। স্বপ্নের বাস্তবরূপ কখনও কখনও তাঁর বুকের পাঁজর গুঁড়িয়ে দিয়েছে, তবু তিনি সেই দেবতার উদ্দেশ্যে যুক্তকর কপালে বুকে ঠেকিয়ে জ্যেষ্ঠ সন্তানকে মনের বাসনা জানালেন। “আবার সীতাকুণ্ড মা?” পুত্রবধূর কণ্ঠে বিস্ময়, আশংকা ও অবিশ্বাস। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বল্লেন, “হ্যাঁ মা, যেতেই হবে এবং আজই।” না, ওরা কেউ তাঁর স্বপ্নের কথা জানতে চায়নি।

শচীদেবীর অন্ধ বিশ্বাসের বিষয়গুলো এ বাড়ির সকলেরই জানা। বিশ্বাসের কারণগুলোও তাদের অজানা নেই। শচীদেবী বিশ্বাস করেন ঘুমন্ত মানুষ দেবতা। দেবলোক থেকে স্বর্গীয় আলোর পাখায় ভর করে তার কাছে স্বপ্ন নেমে আসে। পৃথিবীর বাতাসে ভাসালে স্বপ্ন অশুচি হয়, পূর্ণতা পায় না। ফলে না। বরং উল্টো কিছু ঘটে সমস্ত জীবনটাই তছনছ হয়ে যেতে পারে। কানে শোনা ঘটনা নয়, নিজের জীবন দিয়ে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা সবকিছু। শচীদেবী সেকারণেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল।

শোভন শ্রেণীর টিকেট কাটতে চেয়েছিল শংকর। তিনি বারণ করেছেন। হু হু করে দাম বেড়ে যাচ্ছে তুচ্ছ বস্তুর। মানুষকে সর্বতোভাবে তার মূল্য দিতে হচ্ছে। ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে হেলাফেলার বস্তু হয়ে গেল মানুষ নিজেই। কতকালের কতদিনের প্রচলিত কত সংস্কারের শেকড় কেটে দিতে হচ্ছে। অতিথি নারায়ণ; তাঁকে ভালমন্দে তুষ্ট করা একদিন জীবনের অঙ্গ ছিল। আর আজ? বাড়ি থেকে বেরোবার মুখে জীর্ণশীর্ণ অভুক্ত লোকটির মুখের উপর বলে এলেন, “মাপ করো বাবা।” ট্রেনের শব্দে শচীদেবীর দীর্ঘশ্বাস হারিয়ে যায়। দিনকাল কি দ্রুতই না বদলে গেল। কলাবৌ এর আলতা রাঙা টুকটুকে পা বাড়িময় পদ্ম ফোটাবে-সেদিন কোথায়? আজ বৌমারা সিঁদুর পরার সময়ও পায় না। বৌদের চাকরী নিয়ে সে কি ঘোর অশান্তি তখন তাঁর মনে। কর্তা বললেন, “দিনকাল কত বদলেছে, পড়াশুনা তো মোটামুটি করেছ, চর্চাও আছে। খবরের কাগজটি তো বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়েই পড় তবু মন-মানসিকতা সেকালের খাঁচায় বন্দী করে রেখেছ কেন? বৌমারা বি, এ, এম, এ পাস করেছে, চাকরি করবে না? আমি নিজে মাষ্টারী করলাম জীবনভর, ওরাও করছে। সম্মানজনক পেশা। তোমার এত আপত্তি কিসে?” সত্যিই তো। শচীদেবী নিজেকে যুক্তির জালে বেঁধে ফেলেন অল্পদিনের মধ্যেই। রবি ঠাকুরের লেখায় পড়েছেন, ”মনকে খুঁত খুঁত করতে দিলে সে আপনাকে আপনিই ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।” আজ বয়সের অভিজ্ঞতায় জেনেছেন, মেনে নিলেই স্বস্তি, সুখ, আনন্দ। কারো বিরুদ্ধে তাঁর নালিশ নেই। অতএব তিনি সুখী। সুখের কথা মনে হতেই একখিলি পানের তৃষ্ণা প্রবল হয়ে উঠল। আর ঠিক তক্ষুণি গতি কমতে থাকা ট্রেনটির প্রতি অপরিসীম কৃতজ্ঞতা বোধ করলেন তিনি। সামনে তাহলে বিরতি আছে। চলতি ট্রেনে পান বানানোর মত হাতের দক্ষতা আজকাল আর নেই।

চুন-সুপারি, খয়ের-জর্দার পুর দিয়ে বানানো পানের খিলিটা মুখে তুলতে যাবেন এমন সময় অকস্মাৎ মাঝপথে থেমে গেল শচীদেবীর হাত; অপলক তাকিয়ে রইলেন তিনি। বাঁ কাঁখে ছেলে, ডান হাতে মেলে ধরা টিকিট। আসন সংখ্যা মিলিয়ে দেখতে দেখতে এগিয়ে আসছে মেয়েটি। পাশ কাটিয়ে ওর গা ঘেষে চলে গেল এক বেহিসেবী যুবক। ঘোমটার আঁচলে ভারসাম্যের ব্যত্যয় ঘটল; ঘোমটা গেল খুলে। ঘাড় ফিরিয়ে চোখে একরাশ ভর্ৎসনা নিয়ে তাকাতে গিয়ে আর এক বিপত্তি। হাত খোঁপাটি তখন আধভাঙা হয়ে কাঁধে পড়ে মূহূর্তের জন্য সলজ্জ দ্বিধাগ্রস্ত। মেয়েটি মুখ ফিরিয়ে আনতেই এলোচুলের ঝর্ণাধারা। শচীদেবী অন্ধকারে কি যেন খুঁজতে থাকেন। মেয়েটি তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। ওর নিটোল নাকের আগায় শিশির-ঘাম। “বাঁচলাম মাগো, তোমার পাশেই ঠাঁই।” শচীদেবী চমকে ওঠেন। বহুকাল আগে শোনা আর্দ্র কণ্ঠস্বর। খুব চেনা। কিন্তু ধরতে পারছেন না। মেয়েটার কান গলা খালি। হাতে রঙচটা প্লাষ্টিকের বালা। অথচ ঝলমলে স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য।

ট্রেন ছাড়ার ঘন্টি বাজল। হঠাৎ যেন মন্ত্রবলে উদয় হল এক ষণ্ডামার্কা লোক। হ্যাঁচকা টানে বাচ্চাটাকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুতপায়ে চলে গেল। কি হলো, হলোটা কি-কামরাময় গুঞ্জন। মেয়েটি নির্বিকার ঔদাসীন্য মুখে মেখে বসে রইল চুপচাপ। আলতো টানে ট্রেন চলতে শুরু করেছে। শচীদেবী মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ভাবলেশহীন আনত চোখ কোলের উপর রাখা হাত দু’টির উপর ন্যস্ত। হঠাৎ যেন বেমানান চুড়ি দু’টিকে আবিষ্কার করে তার চোখ। ত্বরিৎ গতিতে চুড়ি দু’টি খুলে জানালার বাইরে ছুঁড়ে দিয়ে শচীদেবীর চোখে চোখ রেখে ফিক করে একটু হাসল। আশ্চর্য! দুগালে দুটি গভীর, নিটোল ছোট্ট টোল। শচীদেবী মনে মনে মাথা নাড়েন। অসম্ভব। এ হয় না, হতে পারে না। তবে ওর সঙ্গে কথা বলা দরকার। কে মেয়েটি, কি নাম, কোথায় ঘরবাড়ি, লোকটি কে? শচীদেবী প্রশ্ন করার আগে মেয়েটি কলকলিয়ে ওঠে। “তোমারে যেন কোথায় দেখিছি গো, খুউব চেনা চেনা লাগতিছে।” না, এ ভাষার সঙ্গে শচীদেবীর ভাবনার তাল মিলছে না এবং তাতে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছেন। আসলে মানুষ শামুক নয়, দৃশ্যমান কোনো আবরণের অন্তরালে লুকিয়ে থাকার উপায় তার নেই। মানুষ উটপাখিও নয় যে বালুতে মুখ গুঁজে পৃথিবী ভুলে থাকবে। আর যুক্তি-বুদ্ধি দিনকে দিন এমন সূর্যের আলোর প্রখরতা পাচ্ছে যে সান্ত্বনার বালুস্তর মানুষ কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। তবু কি আশ্চর্য। বিপদের আভাস দেখলে কেমন করে যেন মানুষ শামুকী স্বভাব পেয়ে যায়। হ্যাঁ, কি যেন বলছিল মেয়েটি? তাঁকে চেনা চেনা লাগছে। আসলে নিজের ঘরদোর, আত্মীয়-পরিবেশ ছেড়ে মানুষ যখন বাইরে বেরোয় তখন সব মানুষের চোখে-মুখে ঘরের মানুষের ছায়া দেখে। চলতি ট্রেন থেকে গাছ-গাছালি ঘেরা সব বাড়ি-ঘরকে নিজের বাড়ির মতো মনে হয়। শচীদেবীর কথায় কে জানে কেন যেন মেয়েটির চোখ দুটি জলের আয়না হয়ে গেল। একটু অপ্রস্তুত হয়েই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা, তোমার ছেলে নিয়ে নেমে গেল কে লোকটি? ছেলের কি হয়?” একটুও ভাবনা চিন্তা না করে মেয়েটি চটপট উত্তর দিল। “ছেলের মালিক।” শচীদেবী বুঝলেন। নিশ্চিন্ত হলেন যে ওর মাথায় কোন দোষ নেই। বরঞ্চ বেশ বুদ্ধিমতি মেয়ে।

: ছেলের মালিক অর্থাৎ ছেলের বাবাতো? মেয়েটি ডানদিকে মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানায়। ওর বাম কন্ঠাস্থির গোড়া ঘেঁষে জোড়া তিল। শচীদেবী অসহায় বোধ করেন। তিনি যেন দেড়যুগ আগে শরণার্থী শিবির ত্যাগের প্রাক্কালে খুকীকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। এবার দেশে ফিরবেন। রণজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা তাঁর দু’দুটি সন্তান পাশে রয়েছে। কর্তা কাছাকাছি। তবু কত ভয়, দ্বিধা, সংকোচ। ছোট ছেলেটির জন্মের প্রায় ছ’বছর পরে একটি মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। তারপর প্রায় এক যুগ কেটে গেছে। এতকাল পরে শরণার্থী শিবিরে তিনি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, কেউ বিশ্বাস করবে? কর্তা অভয় দিলেন। “কি যে বল। হুবহু তোমার রঙ-চেহারা এমনকি ঘাড়ের এই জোড়া তিল। দুগালে স্পষ্ট দুটি টোলের লক্ষণ। তবু দেশের মানুষ অবিশ্বাস করবে?” শচীদেবী যেন সুদুর অতীতের সেই কথাগুলো স্পষ্টই আবার শুনলেন। কিন্তু মেয়েটি তাঁকে বাস্তবে নিয়ে এল। তিনি অনুভব করলেন তাঁর চোখেমুখে জলের প্রলেপ। খুব ঘনিষ্ঠতায় কাছে বসে তাঁর ঘাড়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মেয়েটি। বহুদিন এমন মমতাময় স্পর্শ পাননি শচীদেবী। কিন্তু অস্তিত্বের গভীরে কোথাও সংস্কারের কাঁটা ফুটল। মেয়েটির ধর্ম-তাঁর স্বধর্মের তো নয়ই। অথচ জলও খেলেন ওর হাতে। জোর দীর্ঘশ্বাস পড়ল শচীদেবীর।

: খুব দুঃখু তোমার, না মা? চেহারা দেখে কিন্তু মনে হয় খুব সুখী মানুষ। আমার কোনো দুঃখু-টুকু নাই। আল্লাহ নাই, ভগবান নাই। নামাজ জানিনা, পূজাও জানিনা। কিচ্ছু জানিনা। মা নাই, বাপ নাই, স্বামী নাই, ছেলেপিলে নাই-আবার সবই আছে, খালি মা-টা হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই মরেই গেল। ওই যে দেখলেন না, ওটিই তো স্বামী। আমি তখনই কয়েছিলাম শ্বশুরকে ও বাবা, তোমার পাগল বেঁধে রাখো, নইলে আবার আমার পেছু নেবে। পাগল-ছাগল স্বামী একটা। নইলে তোরই তো ছেলে, আমার কি? জ্বরজারি লেগেই থাকে ছেলেটার। এই কাঞ্চীপুরের পীরবাবার পানি পড়া আর দোয়া তাবিজে কত মানুষ ভাল হয়ে গেল- তা ভাবলাম নিয়ে যাই ছেলেটারে। শ্বশুর তো আমার কথায় ওঠ-বস করে। করবে না ক্যান? শ্বশুর বটে আবার বাপও বটে। সেই ছেলেবেলায় কুড়িয়ে পেয়েছিল। বুকে ধরে এনে শাউড়ীকে কয়েছে, “ন্যাও, বেটি নাই, বেটি নাই বলে কত হুতাশ তোমার আল্লাহ দিয়েছে, ন্যাও।” সেই মা-হুট করে একদিন মরে গেল। মরার সময় কানে কানে মন্ত্র দিয়ে গেল, “তুই পালিয়ে যাস, পালিয়ে যাস – নইলে মরণ।” আমি ভাবলাম মরণের মুখে মায়ের মাথার ঠিক নেইকো। কি কইতে কি কয়। তা সত্যিই মরণ হল গো মা। যারে এতদিন ভাই বলে জেনেছি, পাগল বলে কত হাজার বার, শিকলি বেঁধে রেখেছি, মৌলানার কলমার জোরে সেই হয়ে গেল স্বামী। আমার ছেলের বাপ। আমি মা। আমার বাপ-মা কনে?- ওমা, তোমার চোখে ধারা বয় কেনে গো মা?

শচীদেবী যেন অথৈ সমুদ্রে সাঁতার কাটছেন। মুক্তোর মত দাঁত ফুটেছে খুকীর, চোখের তারায় হাজার তারার ঝিকিমিকি। কর্তা বললেন, ‘স্বপ্নে দেখেছ যখন তুমি না গিয়ে ছাড়বেনা সে তো বুঝি। কিন্তু আমার এখন ঝামেলার অন্ত নেই। বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট, ওদিকে ইস্কুল ফাইনালের নির্বাচনী পরীক্ষা, কোচিং কত কি। ছেলেরাও ঢাকায়। ভোলাকে নিয়ে সাহস হয় তো যাও। আমার আপত্তি নেই। জমজমাট মেলা তখন সীতাকুন্ডের পাহাড়ী এলাকা জুড়ে। সেই উষ্ণ প্রস্রবনে ডুব দিয়ে পাপক্ষয়। মানুষে মানুষে সে কি মিলন মেলা। কিন্তু খুকী কোথায়? নেই, নেই, নেই। আর নেই। চোখের জল ফুরালো কিন্তু বুকের জ্বালা জুড়ালোনা। এতকাল পরে ঠাকুর, আবার পুণ্যস্নানে মন ছোটালে কেন? কেন, কেন, কেন? মেয়েটি তাঁর হাত ধরে ফেলে। “মাথা কুটছো কেন গো মা? কি এমন দুঃখু? সঙ্গে কেউ নাই? যাচ্ছ কনে? কুটুম বাড়ি? কোন ইষ্টিশান?” অনিচ্ছা সত্বেও শচীদেবীকে উত্তর দিতে হয়। সহজ হতে হয়। মেয়েটি এবার এক অদ্ভুত বায়না ধরে।

: তোমার সঙ্গে নেবে আমারে? তুমি তো খুব ভাল মানুষ; আমি সারা জীবন তোমার দাসীবাদী হয়ে থাকব। নেবে আমারে? আমি তোমার ধম্ম-কম্ম নষ্ট করবনা, পূজার ফুল ছোঁবনা, নদীতেও নামবনা শুধু চোখে চোখে রাখব তোমারে। দুটো তো ভারী দিন-তুমি না চাইলে না হয় ফিরতি পথেই নেমে যাবনি। নেবে গো মা? শচীদেবী যেন বোবা হয়ে গেছেন। মেয়েটি হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে চুল ঝেড়ে ঝুড়ে টান টান করে খোঁপা বাঁধলো। আঁচল তুলে দিল মাথায়। শুভ্র, ছোট কপালের সঙ্গে মিলে মিশে মাঝবরাবর উঠে গেছে টানা, সোজা, সরু সিঁথি। পরিপাটি সরল চুলের টান টান মসৃণতার উপর শাড়ির লালপাড়ের রেখা। হরিণ চোখ, নিটোল নাক, সুষম নাকের ভাঁজ, ঠিক যেন দশভুজার মুখ। বিসর্জনের বাজনা বাজে শ্রুতিতে। শচীদেবীর দুহাতের দশটি আঙ্গুল থরথর করে কাঁপে। ততক্ষণে কাঞ্চিপুরের প্ল্যাটফর্ম-ছুঁইছুঁই ট্রেনের বাঁশি বেজে উঠেছে। ত্বরিৎ গতিতে মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই জানালার বাইরে সেই মুখ। লালচে ঠোঁট, মেঘলা চোখ। ছাদবিহীন প্ল্যাটফরমে ভর দুপুরের উজ্জ্বল রোদ। শচীদেবীর হহৃৎপিণ্ড জুড়ে প্রবল কম্পন। ওর নাকের আগায় ছোট্ট লাল তিল। রোদের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

: যাই গো মা। পীর বাবার কাছে তোমার জন্যি দোয়া করাবো। যাই এবার। তুমি কিন্তু সাবধানে থাকবে গো মা।

শচীদেবী অকস্মাৎ অনুভব করেন তিনি যেন আর নেই। মাথাটা শূন্য। বুকের মধ্যে অন্ধকারের অতল গহ্বর। স্বপ্নে সুউচ্চ চূড়ায় ওঠার পর পদস্খলনের মুহূর্তে যেমন করে ঘুম ভেঙে যায় তেমনি ভাবে ঘুম ভাঙল তাঁর। এতক্ষণ তিনি তবে স্বপ্নই দেখেছেন। স্বপ্নটি তিনি আগাগোড়া আবার সাজালেন। দেখলেন। আবার। বারবার। মনে মনে স্বপ্নের কাহিনী শোনালেন ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনী ও পাড়া পড়শীকে। হ্যাঁ, পৃথিবীর বাতাসে ভাসালে স্বপ্ন যে ফলে না, এ বিশ্বাসের একটা জোরালো সমর্থন তাঁকে রচনা করতেই হবে।

কালো জল সাদা ফেনা
ফেরদৌস আরা আলীম
প্রথম প্রকাশ ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০

গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প

( চট্টগ্রামের ‘খড়িমাটি’ প্রকাশনা থেকে আগামী মে মাসে কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস আরা আলীম প্রণীত সারা জীবনের গল্পের একটি সংগ্রহ প্রকাশিত হবে৷ ‘নিউজ থ্রি সিক্সটি’ পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য শুভ কামনা রইলো।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

সাবস্ক্রাইব

সম্পাদকের নির্বাচিত

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

বৃত্ত

“সমস্যাটা কি খুব জটিল?” ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলেন রহমান...

কবিতা বলতে আমি যা বুঝি

কবিতা এই সময়ে কারা লেখে এবং কেন লেখে এটাই...

নাচ দেশে দেশে

নাচ ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে একটি গল্পকে বিশ্বের...

কার কবিতা কে লেখে

মানুষের রক্তের অন্তর্গতে গুজবের প্রতি মুগ্ধতা আছে। বলা ভালো,...